আজ থেকে গাড়ি চালানোর ঘোষণা এক পক্ষের : চট্টগ্রামে ধর্মঘট নিয়ে মালিকদের বিবাদ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে পরিবহন ধর্মঘট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ। তবে ধর্মঘটের সুযোগে একটি পক্ষ রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করতে পারে, এই আশঙ্কায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপ নামে পরিবহন মালিকদের একটি পক্ষ আজ ভোর থেকে নগরীতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির অধিভুক্ত চালকরা নগরীতে গাড়ি চালাবেন। গতকাল বিকালে পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল মানবজমিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা ধর্মঘট ডেকেছি। আমরা বলেছি, দাম না কমালে কিংবা পূর্ব নির্ধারিত ভাড়া না বাড়ালে আমরা গাড়ি চালাবো না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ধর্মঘটের নামে কিছু কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে হয়রানি করছেন। ছোট ছোট পরিবহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়ার কথা শুনলাম। এমনকি সেনাবাহিনীর পণ্যবাহী গাড়িও আটকে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর আমরা কেন অন্যদের বাধা দিতে যাবো। আমরা তো ধর্মঘট ডেকেছি, হরতাল নয়।’ এই পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, ‘আমাদের মনে হয়েছে, একটি পক্ষ সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য এমন করছেন। আমি আগ্রাবাদসহ কয়েক জায়গায় দেখলাম। শ্রমিক নাম দিয়ে যারা গাড়ি আটকাচ্ছেন, তারা কেউ শ্রমিক নন। তারা সবাই ষড়যন্ত্রকারী। আমরা তো তাদের এ সবের সুযোগ দিতে পারি না।’ তবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুছা বলেন, এই ধর্মঘট ডেকেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আমরা নিজেদের মতো করে সেটি বন্ধ করতে পারি না। কেন্দ্রীয় কমিটি যখনই সিদ্ধান্ত দেবেন, তখনই আমরা প্রত্যাহার করবো। এখন কেউ যদি আগ বাড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, সেটি উনাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমাদের কোনো কিছু বলার নেই।
সরজমিন দেখা যায়, ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে নগরীতে হালকা যান চললেও গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, অক্সিজেন, ষোলশহর, কাজীর দেউড়ি, নিউমার্কেট, কোতোয়ালি মোড় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের ভিড়। বিভিন্ন কারখানা ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় কর্মজীবী মানুষ গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সুযোগে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় চালকরা। জানা যায়, সকাল থেকে নগরের দুই নম্বর গেট, কাজীর দেউড়ি, কোতোয়ালি মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবহন শ্রমিকরা অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের ছোট ছোট পরিবহনে চলা যাত্রীদের বাধা দিতেও দেখা যায়। এদের অনেকে আবার লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলও করেন। এনিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তাদের সঙ্গে যাত্রী ও হালকা যান ড্রাইভারদের বাকবিতণ্ডা হয়। এদিকে পরিবহন বন্ধ থাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কোনো গাড়ি বাইরে যায়নি। একইভাবে কোনো গাড়ি ভেতরে যায়নি। তবে বন্দরের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। জাহাজে মালামাল উঠানামা হয়েছে। যদিও এভাবে আর কয়েকদিন চললে বন্দরে পণ্যজট তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে দুই দিনের ধর্মঘটে ৩৬ হাজার কন্টেইনার জমা হয়েছে। যেখানে বন্দরের ধারণ ক্ষমতাই ৫০ হাজার কন্টেইনার।