আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের ধর্ষণ ও হত্যা ছাড়া সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাগেরহাট ও রামপাল সংবাদদাতা॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সুন্দরবনে দস্যুতা ছেড়ে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন, তাদের নামে থাকা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা ছাড়া অন্য সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপালে ‘দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবস: ৩য় বর্ষপূর্তি ও আত্মসমর্পণকৃতদের পুনর্বাসন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনের জলে, স্থলে, বনে কোথাও আর দস্যুতা করতে দেওয়া হবে না। আত্মসমর্পণকারী দস্যু ও তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা যেনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সেজন্য নগদ অর্থ, ঘরবাড়ি, গবাদিপশু এমনকি নৌকা ও জাল দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করছি, শিগগিরই মামলা তুলে নেওয়া বা প্রত্যাহার করা যাবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মো. সামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য পীর ফজলার রহমান, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্না সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, পুলিশের মহা পরিদর্শক ড. বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদ। পরে আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ সাবেক দস্যুকে পুনর্বাসনের আওতায় ১০২টি ঘর, ৯০টি মুদি দোকান, জাল, ১২টি মাছ ধরার নৌকা এবং ২২৮টি গবাদিপশু হস্তান্তর করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবন থেকে ৩২টি জলদস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন আত্মসমর্পণ করেন। এসময় ৪৬২টি অস্ত্র, ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেন আত্মসমর্পণকারীরা।

ভাগ