যশোর নগর বিএনপির সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত: যোগ্য ও ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর নগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল পুনর্গঠনের যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেখানে যোগ্য ও ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে। যে কমিটি দলের চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি গণতন্ত্র ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রাজপথে তেজদীপ্ত ভূমিকা পালন করবে। গতকাল সোমবার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচন ও গণমুখী রাজনৈতিক দল। যে দল নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি বার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর অগ্রনী ভূমিকা রয়েছে।
১/১১ থেকে শুরু করে ২০১৪ এবং ১৫ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের প্রতিটি নেতাকর্মী রাজপথে সরব ভূমিকা পালন করেছেন। সেই আন্দোলনে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী একাধিক মিথ্যা মামলায় জর্জরিতসহ সীমাহীন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। দল বরাবরই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেছে। পুনর্গঠন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা আন্তরিকতার মাধ্যমে অতীতের মত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। সকলের নেতৃত্ব দেয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে দলের এবং দেশের স্বার্থে যারা আগামীতে কঠিন পথ পাড়ি দিতে পারবেন। কোন কারণে যোগ্য এবং ত্যাগী অবমূল্যায়ন কিংবা নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত না হন সেটিও নিশ্চিত করা হবে। সর্বোপরি নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে শক্তিশালী হওয়ার মধ্য দিয়ে দলকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে রূপান্তরিত করা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে। দেশের গণতন্ত্র নির্বাচিত। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কথা বলার মত কোন অবস্থা নেই। এ থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্তি দিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আইকন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে। জনবিরোধী সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে লক্ষ্যে দল পুনর্গঠনের এই কার্যক্রমে। বিগত দিনে যারা রাজপথে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মধ্য প্রতি ইউনিটে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন। নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, একে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান খাঁন, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. জাফর সাদিক, অ্যাড. মোহাম্মদ ইসহক, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-উন-নবী, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল বাশার শাহিন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন, নগরবিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু। পরে অধ্যাপক নার্গিস বেগম নগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তি করে মারুফুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুকে যুগ্ম আহ্বায়ক ঘোষণা করে।

ভাগ