অ্যাপসভিত্তিক সুদের কারবার: সাতজন দু’দিনের রিমান্ডে

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অ্যাপসভিত্তিক অবৈধ সুদের কারবারি ও অনলাইন প্রতারক চক্রের সাত সদস্যের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা হলেন-চীনা নাগরিক হি মিংশি ও ইয়াং সিকি, মজুমদার ফজলে গোফরান, আহসান কামাল, হিমেল অর রশিদ, নাজমুস সাকিব ও জেরিন তাসনিম বিনতে ইসলাম।
শুক্রবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় অপর পাঁচ সদস্যকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের এসআই প্রাণ কৃষ্ণ সরকার সাত আসামির দশদিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। এসময় আসামিদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাতজনের দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে একদিনের রিমান্ড শেষে অপর পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এসময় তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া ৫ আসামি হলেন- ইমানুয়েল অ্যাডয়োর্ড গোমেজ, আরিফুজ্জামান, শাহিনুর আলম, শুভ গোমেজ ও আকরাম আলী। গ্রেফতার এ পাঁচ আসামি অনুমোদন ছাড়াই ‘থান্ডার লাইট টেকনোলজি লিমিটেড’, ‘নিউ ভিশন ফিনটেক লিমিটেড’ ও ‘বেসিক ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’ নামে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতো। আসামিরা অনলাইন অ্যাপস যেমন- টিকালা, ক্যাশম্যান, র্যাপিড ক্যাশ, আমার ক্যাশের মাধ্যমে জামানতবিহীন লোন দেওয়ার নামে অতিরিক্ত হারে সুদের কারবার করতো। এসব অ্যাপসের সার্ভার চীনে অবস্থিত এবং সেখানে থেকে পরিচালিত হয়। কিছু চীনা নাগরিক বাংলাদেশি নাগরিককে সহায়তার নামে এসব অ্যাপের মাধ্যমে জামানতবিহীন স্বল্প সুদে লোন দেওয়ার প্রলোভনে গ্রাহক আকৃষ্ট করে। তাদের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে গ্রাহকরা লোন নিয়ে স্বল্প সুদের পরিবর্তে উচ্চহারে সুদ দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন।

ভাগ