চৌগাছায় আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত বস্তাপ্রতি ৫শ ১৫ টাকা লোকসান

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত বস্তা প্রতি আলুতে ৫শ ১৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কোল্ডষ্টোরে রাখা আলু নিয়ে উপজেলার আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা পড়েছে রীতিমত মহাবিপাকে। গত মৌসুমের শেষের দিকে আলুর দাম পেয়ে ও এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার কৃষকরা আলু চাষে ঝুঁকে পড়ে। তারা অন্য আবাদ বাদ দিয়ে বেশি বেশি করে আলুর আবাদ করেছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস জানান, গেল মৌসুমে উপজেলায় ডাইম-, কাডিনাল ও দেশী জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২শ ২৫ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছিল ৩শ ৯৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১শ ৭০ হেক্টর বেশী জমিতে আলুর চাষ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকায় চাষী ও ব্যবসায়ীরা বেশী লাভের আশায় আলু কোল্ডষ্টোরে রেখেছিল। উৎপাদন, ষ্টোর ভাড়া, শ্রমিক খরচ ইত্যাদি সহ যে আলুর কেজি পড়েছে প্রায় ১৯/২০ টাকা। সে আলু বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২/১৩ টাকা। ফলে অর্ধেকের বেশি টাকা লোকসান হবে এমনটি ভেবে ষ্টোর থেকে তারা আলু তুলে বাজারে বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
আলু চাষী কৃষক শহিদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, আজগর আলী, রহমত আলী, আব্দুল আলিম, শফি উদ্দীন, ও ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম, আমানত আলী, সিরাজুল ইসলামসহ আরো অনেকে জানান লাভের আশায় তারা মৌসুমের শুরুতে এক বস্তা আলু (৫০ কেজি) ৬ শ ৫০ টাকা, ষ্টোরে বহন বাবদ ৩০ টাকা, ষ্টোর ভাড়া ২শ ২৫ টাকা, লেবার-বহন বাবদ ২শ ১০ টাকা ও ঢলন বাবদ বাদ ৫০ টাকা দিয়ে যার মূল্য পড়ছে ১ হাজার ১শ ৬৫ টাকা। সেই আলু বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬শ ৫০ টাকা। ফলে বস্তাপ্রতি তাদের ৫শ ১৫ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। প্রতি বছর তারা আলু কিনে ষ্টোরজাত করে দাম বাড়লে বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হয়। কিন্তু এ বছর দাম না থাকায় মহাবিপাকে পড়েছেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। চৌগাছা ডিভাইন কোল্ডষ্টোরের ম্যানেজার এ এস এম হাদিউজ্জামান সাগর জানান ২০২১ সালের চলতি মৌসুমে কোল্ডষ্টোরে উপজেলার আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা ১লাখ ১৬ হাজার ৭শ ২২ বস্তা আলু রক্ষনাবেক্ষণের জন্য ষ্টোরজাত করেন। যে আলু ষ্টোর ভাড়া পরিশোধ করে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তুলে নিতে হবে। কিন্তু আলুর দাম কম থাকার ফলে এ পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার ৩শ ১৮ বস্তা আলু ষ্টোর থেকে উত্তোলন করেছে। মৌসুমের প্রায় শেষ তার পরেও এখনও সিংহভাগ আলু ষ্টোরে পড়ে রয়েছে। ডিভাইন কোল্ড ষ্টোরের সিনিয়র কর্মকর্তা আমানুর রসুল খোকা জানান, ডিভাইন গ্রুপ ৬৬ হাজার বস্তা, আলু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ৪ হাজার বস্তা, টিপু সর্দার, আব্দুর রাজ্জাক ১২শ বস্তা, কামাল হোসেন ১ হাজার বস্তা, আব্দুর রশিদ ১২শ বস্তা, রাসের হোসেন ১৮ হাজার ৬শ বস্তা, আকরাম বাণিজ্যালয় ৭শ বস্তা এবং আলু চাষী রহমত হোসেন, শাওন রহমান, কামাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে লাভের আশায় ষ্টোরে আলু রেখেছিলেন। বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ষ্টোর থেকে আলু তুলছেন না। বর্তমান বাজারে দাম নেই তবুও ব্যবসায়ী ও চাষীরা আশায় বুক বেঁধে আছেন আলুর দাম এখনো হয়তো বাড়তে পারে। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে চোখে পড়ে আলু বাঁছাই কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা ষ্টোরের সামনে বসে বেকার সময় পার করছে। এ সময় নারী শ্রমিক রাবেয়া বেগম, সুবিতা রানী, গৌরীবালা, ছবিরোন নেসা, আয়রন বিবি, জবেদা বেগম, সুন্দরী বেগম, সুনিতা দাস জানান ষ্টোর থেকে আলু না তুলায় বেকার হয়ে পড়েছে এখানকার শতশত নারী ও পুরুষ শ্রমিক। একদিকে করোনা মহামারি অন্যদিকে কাজ না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের পরিবার গুলো। আলু ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন জানান ব্যাংক থেকে লোননিয়ে আলু ক্রয়করে ষ্টোর ভাড়া, শ্রমিকের মুজুরি, পরিবহন ভাড়া সহ ইত্যাদি খরচ বহন করে বস্তা প্রতি প্রায় ৫শ ১৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ভাগ