আরও ৫টি মোটরসাইকেলসহ চার জনকে আটক করলো যশোরের ডিবি পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চারদিনের ব্যবধানে আরও ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে যশোরের ডিবি পুলিশ। গত সোমবার যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলগুলি উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে চোরচক্রের আরও ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এর ৪ দিন আগে ১১টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোরচক্রের ১০ সদস্যকে আটক করেছিলো ডিবি পুলিশ। গত সোমবার ডিবি পুলিশের অভিযানে আটকরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চিংড়াখালি গ্রামের মজিদ সরদার ওরফে মজিদ গাজীর ছেলে বর্তমানে যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর শফিউল্লাহর মোড় এলাকার জনৈক শাহাজাহানের বাড়ির ভাড়াটিয়া আল-আমিন ওরফে আলমগীর (৪০), বাঘারপাড়া উপজেলার খানপুর গ্রামের ছমির বিশ্বাসের ছেলে খাইরুল ইসলাম কাজল ওরফে কাজল বিশ্বাস (৫৬), চুয়াডাঙ্গা সদরের কাউন্সিলপাড়ার মৃত মনির হোসেনের ছেলে সোহানুর ইসলাম তমাল ওরফে মামুন (২৮) ও রাজাপুর মল্লিকপাড়ার শওকত আলী ওরফে শকোর ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৮)। আটক চোরচক্রের সদস্যদের গতকাল মঙ্গলবার যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের মধ্যে তমাল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গৌতম মল্লিক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। অপর ৩ জনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালতের বিচারক। ডিবি পুলিশ আদালতে এই ৩ জনের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলো।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. শামীম হোসেন জানান, গত ২৭ আগস্ট যশোর শহরের নাজির শংকরপুর থেকে একজন মোটরপার্টস ব্যবসায়ীর একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ব্যবসায়ী কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন। তদন্তকালে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে তমাল নামে একজন চোরকে শনাক্ত করেন। এরপর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার বিকেলে যশোরের উপশহর সংলগ্ন বাবলাতলা মোড়স্থ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-বিভাগ অফিসের প্রধান গেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তমালসহ চোরচক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেন। তাদের কাছে খবর ছিলো সেখানে চোরাই মোটরসাইকেল বেচাকেনা হচ্ছে। সেখান থেকে আটক অপর দুজন হলেন, আল-আমিন ও কাজল। অভিযানে আটককৃতদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ১টি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল, ১টি বাজাজ প্লাটিনা মোটরসাইকেল, ২টি মাস্টার কী (চাবি) এবং জননী কুরিয়ার সার্ভিসের মোমো উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে চোরচক্রের সদস্যরা স্বীকার করেন যে, তারা নাজির শংকরপুরের মোটরপার্টস ব্যবসায়ীর বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেলটি চুরি করেছিলেন। সেটি চুয়াডাঙ্গায় তাদের চক্রের সদস্য সাদ্দামের কাছে বিক্রির পর সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এরপর ডিবি পুলিশ সোমবার দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গার রাজাপুর মল্লিকপুরে অভিযান চালিয়ে সাদ্দামকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। সেখান থেকে এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন চোরাই ১টি টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম ডিবি পুলিশকে জানান, যশোর থেকে কেনা বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেলটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার চোরজাবরাজান এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে শাহ আলমের কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সরবরাহ করেছেন। সাদ্দাম আরও জানান, তিনি ইতোপূর্বে তমাল ও আল-আমিনের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে কয়েকটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, যশোরে আটক তমালের স্বীকারোক্তিতে আরও ১টি চোরাই টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার উথুলি বাজারপাড়ার জনৈক আনার হোসেনের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
সূত্র জানায়, আটক ৪ জন ছাড়া তাদের চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলারচোরজাবরাজান এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে শাহ আলম, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান বারুইপাড়ার ময়েন উদ্দিন ফকিরের ছেলে হাসান, গোপালগঞ্জের রফিক, চুয়াডাঙ্গার জাফরপুর গ্রামের সামশুলের ছেলে হিরন ও ডিঙ্গেদাহ বাজারের মনোয়ারের ছেলে মোটরসাইকেল গ্যারেজমালিক মিলন। এদের সকলের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা করেছে ডিবি পুলিশ। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশের এসআই মো. শামীম হোসেন যশোর, মাগুরা ও রাজবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোরচক্রের ১০ জন সদস্যকে আটক করেছিলেন। এ নিয়ে চলতি মাসে ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল ও চোরচক্রের ১৪ জন সদস্যকে আটক করলো ডিবি পুলিশ।

ভাগ