ড্রেনের ময়লা অপসারণের উদ্যোগ নেই : সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে যশোর পৌরসভার নিম্নাঞ্চলে

মাসুদ রানা বাবু ॥ বৃষ্টি হলেই যশোর শহরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পৌরবাসীর অভিযোগ পানি নিষ্কাশনের ড্রেনে দীর্ঘদিন জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করার ফলে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম চলে গেলেও পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যত কোন পদক্ষেপ নেননি। ফলে, চলতি মৌসুমে পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা বেশ কয়েকবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন। বৃটিশ ভারতের প্রথম পৌরসভা যশোর। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার আয়তন ১৪ দশমিক ৭২ কিলোমিটার। পৌর এলাকার পানি নিঃস্কাশনের জন্য ড্রেন রয়েছে ১২৩ দশক ২৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে আরসি.সি ড্রেন রয়েছে ৫৫ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার, ইটের গাথুনির ড্রেন রয়েছে ৬০ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার, পাইপের ড্রেন রয়েছে ৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এবং কাঁচা ড্রেন রয়েছে ১ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১,২,৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পানি ভৈরব নদে এবং ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পানি হরিণার বিলে অপসারিত হয়। এছাড়া ৫, ৬ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশের পানি ভৈরব নদে, বাকিটা হরিণার বিলে অপসারিত হয়। সবকিছু ঠিক থাকলেও পৌর এলাকার ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না ড্রেনগুলো দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়কের পাশ থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার সড়কের পাশে নির্মিত সব ড্রেনের অবস্থা বেহাল। অনেক ড্রেনের মধ্যে এতো ময়লা-আবর্জনা জমে আছে যে, সামান্য পরিমাণ পানি ধারণ করার মত অবস্থা নেই। বিশেষ করে বিগত মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর মেয়াদকালে প্রধান প্রধান সড়কের পাশে নির্মিত ঢাকনাযুক্ত ড্রেনগুলোর অবস্থা শোচনীয়। অধিকাংশ ড্রেনের স্লাব পর্যন্ত ময়লা আবর্জনার সাথে নোংরা পানি জমে আছে। আবার কোথাও কোথাও ড্রেনের অর্ধেক উচ্চতা জুড়ে কাঁদামাটি জমে আছে। যে কারণে অধিকাংশ ড্রেনেরই পানি অপসারণের ক্ষমতা নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই শহরের নিম্নাঞ্চলে বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া,জমাদ্দারপাড়া, বেজপাড়া, আনসার ক্যাম্প এলাকার শত শত পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েন। এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানিতে এই অঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে অনেক দূরাবস্থার শিকার হয়েছিলেন। এরপর আরও কয়েকবার এলাকাবাসী দুরাবস্থার শিকার হন। শহরের খড়কির কিছু অঞ্চলের বাসিন্দারাও এখন দুরাবস্থার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া সিটি কলেজ পাড়া, মোল্লাপাড়া, বারান্দীপাড়া, ষষ্টীতলাপাড়া, চাঁচড়া ডালমিল, চোরমারা দিঘীর পাড়ের বিভিন্ন সড়ক, গুরুদাস বাবুল লেন, জেলরোড, টিবি ক্লিনিক মোড়, পিটিআই সড়কেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ড্রেন পরিষ্কার না করলেও তারা বর্ষা মৌসুমের আগে নিজ উদ্যোগে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। শংকরপুরের বাসিন্দা হাসমত আলী বলেন, বৃষ্টি আমাদের জন্যে অভিশাপ। কারণ পৌর কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে না। তাই বাধ্য হয়ে প্রতি বর্ষার মৌসুমে নিজেদের টাকায় শ্রমিক দিয়ে ড্রেনগুলো পরিষ্কার করি। তাতেও রক্ষা হয় না। খড়কি এলাকার মনা বিশ্বাস বলেন, তার অঞ্চলের ড্রেন নিজেরা পরিষ্কার করলেও অন্যান্য অংশ পরিষ্কার না করাই পানি বের হতে পারে না। যে কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের জন্য অনেক আগেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতি কাউন্সিলরকে ৭০ জন করে শ্রমিক দেয়া হয়েছে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের জন্যে।

ভাগ