কাবুলে রহস্যজনক সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যে

ড. এ কে এম মাকসুদুল হক
দীর্ঘ ২০ বছরের চাপিয়ে দেয়া অবৈধ যুদ্ধে নাকানি-চুবানি খেয়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও তাদের পশ্চিমা মিত্রবাহিনী এক লজ্জাজনক পরাজয়বরণ করে রাতের আঁধারে ও দিনের আলোতে তড়িঘড়ি করে আফগানিস্তান ত্যাগ করে যায় গত ৩১ আগস্ট। চলে যাওয়ার আগমুহূর্তে কাবুল বিমানবন্দরের আশপাশে কয়েকটি সন্ত্রাসী বোমা হামলা এবং প্রতিক্রিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী পাল্টা ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন ও তাদের ন্যাটো বাহিনীর চলে যাওয়ার প্রাক্কালে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ও পাল্টা হামলা বেশ কিছু অব্যক্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাতারের রাজধানী দোহায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানদের সাথে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য অপসারণের চুক্তিসই করার দিনেই আফগানিস্তানে মার্কিন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের করুণ পরাজয় সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সেই চুক্তির পথ ধরেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মার্কিন সেনা অপসারণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে রাতের আঁধারে কাবুলের বাগরাম বিমানবন্দর দিয়ে বেশির ভাগ মার্কিন সেনাসদস্য মূল্যবান সরঞ্জামাদি নিয়ে তাদের দোসর আফগান সরকারি বাহিনীকে না জানিয়েই গোপনে আফগানিস্তান ত্যাগ করেছে, যাতে বিশ্ববাসী মার্কিন বাহিনীর পলায়নকেই দেখতে পায়। এরপর তাদের বাকি সৈন্য ও স্থানীয় আফগান সহযোগীদের কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে ৩১ আগস্টের মধ্যে (তালেবানদের বেঁধে দেয়া সময়ে) আফগানিস্তান ছাড়ার ব্যস্ততম প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এরই মধ্যে গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের ফটকের বাইরে আমেরিকা গমনেচ্ছু আফগান নাগরিকদের ভিড়ের মধ্যে বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই ব্রিটিশ নাগরিক ও এক শিশু এবং ১৩ জন মার্কিন সেনাসহ ১৯০ জন আফগান নাগরিক নিহত এবং আরো প্রায় ১৪০ জন আফগান নাগরিক আহত হন। এ আক্রমণটি ছিল আফগান ভ‚মিতে স্মরণকালের ভয়াবহতম সন্ত্রাসী আক্রমণগুলোর মধ্যে একটি।
জানা যায়, ‘আইএসকেপি’ তাদের ‘আমাক’ নিউজ এজেন্সির টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে। ‘আইএসকেপি’ হলো ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’। ২০০৩ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে পাশ্চাত্য বাহিনী মিথ্যা অজুহাতে ইরাকে আক্রমণ চালালে ইরাক ধ্বংসস্ত‚পে পরিণত হয় এবং দেশের শিয়া-সুন্নি ভারসাম্য নষ্ট হয়। ইরাকে শিয়া শক্তির উত্থান ঘটে এবং ইরানের প্রভাব বিস্তৃত হয়। প্রচণ্ডভাবে মার খাওয়া সুন্নি সম্প্রদায় এবং সাদ্দাম হোসেনের দুর্ধর্ষ গার্ড রেজিমেন্টের চাকরি হারানো সৈন্যরা শিয়াদের প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হলো। ইরান ও সিরিয়াকে ‘শায়েস্তা’ করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ এই কট্টর সুন্নি বাহিনীকে মদদ দিয়ে শক্তিশালী করে গড়ে তোলেন। এই বাহিনী থেকে ২০১৪ সালে বের হয়ে আসা ‘আইএসআইএল’ ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশজুড়ে ‘খেলাফত’ কায়েমের দাবি করলে তালেবানদের ক্ষুদ্র একটি অংশ উৎসাহিত হয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ‘আইএসকেপি’ প্রতিষ্ঠা করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানজুড়ে বৃহত্তর খোরাসান অঞ্চলে খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। এতে মূল তালেবানদের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে ভ‚রাজনৈতিক স্টান্টবাজির উদ্দেশ্যে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তালেবানদের সাথে আফগানিস্তান ত্যাগে চুক্তিবন্ধ হলে এই ‘আইএসকে’-এর সাথে তালেবানদের দ্বন্দ্ব শত্রুতায় রূপ নেয় এবং পরস্পর ধ্বংসসাধনে লিপ্ত হয়। কাজেই এই জঙ্গিগোষ্ঠী একই সাথে দুই শত্রু তালেবান ও মার্কিনিদের নিধনের উদ্দেশ্যেই এই বোমা হামলা চালায়। এতে এক দিকে যেমন আমেরিকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, অন্য দিকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য তালেবানদের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সেই সাথে ‘আইএসকে’-এর শক্তি সামর্থ্য প্রদর্শিত হলে, যাতে তাদের নতুন রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্র বিস্তৃত হতে পারে। অন্য দিকে তালেবানদের বিজয়ে নিরাশ হয়ে পড়া অন্যান্য ‘আইএসকে’-এর সদস্যরা চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। নৃশংস এই বোমা হামলার আগে তালেবান ও মার্কিনিদের নিষ্ক্রিয়তা অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। কারণ এ হামলাটি হঠাৎ হয়নি। আগে থেকেই আক্রমণের একটি ধারাবাহিক সিগন্যাল আসছিল। আক্রমণের দায় স্বীকারকারী জঙ্গি সংগঠন ‘আইএসকে’-এর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হামলার দুই সপ্তাহ আগে একটি সাক্ষাৎকারে সিএনএনের সাংবাদিক ক্ল্যারিসা ওয়ার্ডের কাছে এ হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল (যুগান্তর : ২৯ আগস্ট ২০২১)। এরপর মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের কাছেও সুনির্দিষ্ট তথ্য এসেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজে বলেছিলেন, ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসী হামলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে (দি ডেইলি স্টার : ৩০ আগস্ট ২০২১)। বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক সাংবাদিক ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলেছেন, ‘মার্কিন গোয়েন্দারা ঠিক যে ধরনের হামলার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন কাবুলের হামলা হুবহু সেই রকমের’ (নয়া দিগন্ত : ২৮ আগস্ট ২০২১)। এমনকি আক্রমণের কয়েক ঘণ্টা আগেও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস হিপি সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। তা ছাড়া এমন একটি বিশৃঙ্খল, সরকারবিহীন দেশ থেকে মার্কিনিদের এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের পলায়নরত অবস্থায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ অঙ্কের হিসাবের মতোই অবশ্যম্ভাবী ছিল। তার পরও কেন মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল না বা বোমা হামলার ঘটনাটি সহজেই ঘটতে দিলো তা পুরোপুরিই রহস্যজনক! তালেবান ফোর্সের সাথে সমন্বয় করে এ হামলা প্রতিহত করা দুঃসাধ্য ছিল না বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তাদের এ নিষ্ক্রিয়তা শুধুই কি দুর্ঘটনা, যেখানে তাদেরও ১৩ জন সৈনিক নিহত হয়েছেন? নাকি এ নিষ্ক্রিয়তায় মার্কিনিদের রয়েছে সুদূরপ্রসারী দুরভিসন্ধি? আসলে এ ঘটনায় মার্কিনিরা এক ঢিলে অনেক পাখি মারার চেষ্টা করেছে বলে অনেকেই মনে করেন। প্রথমত, তাদের সৈনিক নিহত হওয়ায় ‘আইএস’ বা সন্ত্রাসী হামলা বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে। সেই সাথে ২০ বছর ধরে মার্কিন আগ্রাসনের যৌক্তিকতা এবং তালেবানদের সাথে চুক্তি করে আটকে পড়া যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা মার্কিন জনগণ ও বিশ্ববাসী অনুধাবন করতে পেরেছে। তা ছাড়া তালেবানদের বিজয়ের আড়ালে রয়েছে অদৃশ্য ‘সন্ত্রাসের শক্তি’ এবং আফগান ভ‚মি যে ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ তা বিশ্ববাসী জানল! ফলে ইসলামের নামে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হলেও তাতে সন্ত্রাসের উপাদান রয়েছে বা সন্ত্রাসের মাধ্যমেই তালেবানদের ‘জিহাদ’ সফল হয়েছে এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; তা বিশ্ববাসী দেখল! একই সাথে তালেবানরা এই ‘আইএস’ কে প্রতিহত করতে অপারগ প্রমাণিত হচ্ছে এবং ‘সন্ত্রাসীবিরোধী’ যুদ্ধে তালেবানরা মার্কিনিদের সহযোগিতার নামে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি কামনা করবে। অন্য দিকে চীন ও রাশিয়া নিজ নিজ দেশে সন্ত্রাস বিস্তারের আশঙ্কায় তালেবানদের বিষয়ে সতর্ক আচরণ করবে বা বয়কট করবে। আবার সৈন্য অপসারণ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজ দেশে জনগণের আস্থার সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছেন। এ অবস্থায় এ ধরনের একটি সন্ত্রাসী হামলার বিপরীতে কাউন্টার অ্যাকশন মার্কিন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি ক্যারিশমাটিক পদক্ষেপ বলে গণ্য হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার এক দিন পরই দেখা যায়, ‘আইএসকে’ ঘাঁটি বলে প্রচারিত ‘নানগারহার’ এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলায় কয়েকজন নিহত হয়। মার্কিনিরা ২৭ আগস্টের বোমা হামলার পরিকল্পনাকারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে এতে দাবি করে যদিও এর পক্ষে তাদের একতরফা বক্তব্য ছাড়া আর কোনো কিছু নেই। তবে ‘নানগারহারে’ ড্রোন হামলার স্থানের মানুষদের ভাষ্যমতে, তারা একটি গাড়িতে আগুন নেভাতে গেলে সেখানে পাঁচ-ছয়জন জীবন্ত দগ্ধ মানুষের লাশ দেখতে পায়। কাজেই ‘বোমা হামলার পরিকল্পনাকারী’ হত্যার সফলতা দেখাতে গিয়ে মার্কিনিরা আসলে কাদের হত্যা করল, তা একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তাই জানেন! সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধের ধারাবাহিকতায় মার্কিন ড্রোন আবার ৩০ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরের পাশেই একটি বাড়িতে হামলা চালায়। এতে ছয় শিশুসহ একই পরিবারের মোট ১০ জন নিহত হন। এসব নিরপরাধ মানুষ আমেরিকার নোংরা ও নৃশংস ভ‚রাজনৈতিক স্বার্থের শিকার। গত ২০ বছরে মার্কিন বাহিনী এ ধরনের অসংখ্য ড্রোন হামলা করেছে সন্ত্রাসী হত্যার নামে। তাদের এ কাপুরুষোচিত হামলা থেকে বিয়েবাড়ি, নামাজে জানাজায় সমবেত নিরীহ মানুষও বাদ যাননি। সাম্প্রতিক ‘আইএসকে’ বিরোধী এসব ড্রোন হামলা আরো একটি সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে রাখছে। তা হলো তারা আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার পরও বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী শিকারের অজুহাতে আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা বা প্রিসিশন গাইডেড মিসাইল হামলার পথও খোলা রাখল। এতে তারা সময় সুযোগমতো তালেবানদের মূল নেতৃত্বকেও বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভুল স্বীকার করবে বা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বলে চালিয়ে দিতে পারবে! আবার মার্কিন আধিপত্যের শেষ দিকের এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা তালেবান কর্তৃপক্ষকে ঘরে বাইরে সমূহ বেকায়দায় ফেলে দিলে তা আমেরিকার পক্ষেই যেতে পারে। কাজেই ২৭ আগস্টের বোমা হামলার ঘটনা জানা সত্তে¡ও ন্যাটোভুক্ত পশ্চিমা দেশগুলোও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত ছিল বা ঘটনা ঘটতে দিয়েছে। কারণ তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ সহযোগী। আর এই অন্ধ সহযোগিতা বা অনুসরণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে গেলে তা আরো ‘অন্ধ’ হয়ে পড়ে। এই বোমা হামলায় তালেবান কর্তৃপক্ষেরও যথেষ্ট নিষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়। আমেরিকানরা তাদের যথেষ্ট সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারাও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি; বরং তারা ঘটনা ঘটতে দিয়েছে যেন ক্ষতিটা আমেরিকানদেরই হয়। তাই তালেবানরা বলেছে, বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত এলাকায়, যা তাদের আওতার বাইরে। প্রশ্ন হলো, ‘আইএস’ হামলাকারী অবশ্যই বাইরে থেকে কাবুলে প্রবেশ করে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছেছে তালেবান নিয়ন্ত্রণ ভেদ করেই। এতে বিশ্ববাসী দেখল, তালেবানরা সন্ত্রাসী নয়, বরং ‘আইএস’ই আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অন্য দিকে হামলার ভয়ে আমেরিকা যেতে চাওয়া মানুষের ঢল কমবে এবং চূড়ান্ত বিচারে আমেরিকাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সাথে আরো কিছু আমেরিকান সৈন্য নিহত হলে তালেবানদের বিজয়টাই পাকাপোক্ত হবে। এটাও প্রমাণিত হলো যে, মার্কিন বাহিনীর সাথে চুক্তির পর মার্কিনিদের সাথে তালেবানদের আর কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ আছে ‘আইএস’-এর সাথে। ফলে ‘আইএস’কে উভয়ের কমন দুশমন হিসেবে পরিগণিত হবে এবং তাকে দমন করা সহজ হবে। কারণ মার্কিনিদের পর এখন ‘আইএসকে’ই হবে তালেবানদের মূল চ্যালেঞ্জ। আমেরিকা গমনেচ্ছু নিরীহ ১৭৩ আফগান নাগরিক এবং বাড়ি ফেরার যাত্রাপথে ১৩ জন আমেরিকান সৈনিকের জীবন অবলীলায় চলে গেল তিনটি গোষ্ঠীর একটি ত্রিভুজ সমীকরণের বলি হয়ে। মার্কিন বাহিনী, তালেবান যোদ্ধা ও ‘আইএসকে’- এ তিনটি গোষ্ঠীই যার যার নিজস্ব স্বার্থ কায়েমে সচেষ্ট রয়েছে। ‘আইএসকে’ বোমা হামলা চালিয়েছে আর মার্কিন ও তালেবান কর্তৃপক্ষ এ হামলা সফল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে সব পক্ষই যার যার উদ্দেশ্য সফল করতে চেয়েছে প্রায় ২০০টি প্রাণের বিনিময়ে। কিন্তু মাঠের খেলোয়াড়দের চেয়ে বাইরের দর্শকই লাভ-ক্ষতির চূড়ান্ত বিচারক। এই সন্ত্রাসী হামলায় মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এমনিতেই পরাজয়মূলক চুক্তি ও পলায়নপর সৈন্য অপসারণে বাইডেন প্রশাসন নিজ দেশে ও পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে। তদুপরি তড়িঘড়ি করে প্রতিশোধমূলক ড্রোন হামলায় সাধারণ নাগরিক ও শিশু হত্যা করে ততোধিক ধিকৃত হয়েছে সারা বিশ্বে। কারণ একটি মিথ্যাকে শত মিথ্যা দিয়েও ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না। মূল সত্য দেরীতে হলেও উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।
লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক

ভাগ