স্টাফ রিপোর্টার ॥ শীতকালীন সবজির চারার চাহিদা যোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন যশোরের আব্দুলপুরের চাষিরা। যশোর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলার চাষিরা সবজির চারা কিনতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর বাজারে সবজির দাম বেশি হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দামও বেড়েছে দ্বিগুণ। সে কারণে এখানকার কৃষকরা বেশি দামে চারা বিক্রি করে বাড়তি লাভবান হচ্ছেন।
যশোর সদরের চূড়ামনকাটি বাজার থেকে সোজা চৌগাছা সড়ক ধরে মাত্র দুই কিলো পথ গেলেই ডান দিকে দেখা যাবে সাদা পলিথিনে ঢেকে রাখা হয়েছে পুরো মাঠ। এখানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে উৎপাদিত হচ্ছে শীতের নানা জাতের সবজির চারা। বিশেষ করে বাঁধাকপির বিভিন্ন জাতের চারার সমাহার ঘটেছে এখানে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ করে উন্নত ও মানসম্মত চারা উৎপাদন করছেন। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে কেকে ক্রস, আরশি, গ্রিন-৬০, এটম কুইন, ফুলকপির জাত টপিক্যাল ১১, স্নো বক্স, স্নো হোয়াইট, নিনজা। এর বাইরে বিভিন্ন জাতের লাউ ও টমেটোর চারা রয়েছে। লাউয়ের জাতের মধ্যে রয়েছে মার্শাল, টিয়া সুপার, মার্টিনা, টমেটোর জাত হাইটম, বারি-৪ ও ৮, মিন্টু সুপার, ব্রোকলির জাত ম্যারোডোনা, টপিক্যাল কুইক নিনজাসহ আরও অনেক সবজির জাত রয়েছে মাঠজুড়ে।
কৃষক জানান, এবছর তারা ভালো দামে চারা বিক্রি করতে পারছেন। খরা ও বৃষ্টির কারণে এ বছর প্রথম দফা সবজির ক্ষতি হয়। যেকারণে বাজারে প্রায় বছরজুড়েই সবজির দাম চড়া। এজন্য চাষিরা সবজি চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। গত বছরের চেয়ে সবজির চারা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির চারা প্রতি হাজার ১ হাজার থেকে ২ হাজারে বিক্রি হচ্ছে। সবজি চারা উৎপাদনকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, এবছর বৃষ্টির কারণে আমাদের চারা তৈরি করতে বেশ বেগ পেতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি যাতে জমিতে স্থায়ী না হয় বা ঢুকে পড়ে সেজন্য পুরো মাঠ পলিথিনের চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলার পাশাপাশি নানা খরচ হয়েছে। এতে এক বিঘা জমিতে চারা তৈরি করতে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে তারা অঅশা প্রকাশ করেন, ক্ষেতের চারা বিক্রি করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন।
একই কথা বলেন, শহিদুল ইসলাম নামে আরেকজন চাষি। তিনি বলেন, আপাতত সবজির চারা যে দাম দেখছি তাতে আশা করছি খুব ভালো লাভবান হতে পারবো। প্রতিদিন যশোরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে এখানে চাষিরা এসে সবজি চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এখানকার চারার মান ভালো বলে চাষিদের বাড়তি আগ্রহ বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার আব্দুলপুর মাঠে কথা হয় নড়াইল জেলার তুলারামপুরের আকবর আলীর সাথে। তিনি বলেন, প্রতিবছর এখান থেকে সবজির চারা কিনে এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন। এখানকার চারার মান ভালো বলে তিনি জানান। তবে এবছর দাম বেশি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, গতবার যে চারা প্রতি হাজার ১ হাজার টাকা করে কিনেছি। এবছর তা ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস বলেন, যশোর জেলা সবজি চাষের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য জেলা। এ জেলার চাষিরা সবজি চাষ করে যেমনটা সুনাম করছে ঠিক তেমনি সবজির চারা উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন। চলতি মৌসুমে আব্দুলপুরের চাষিরা মানসম্মত এসব চারা বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হবে। মানসম্মত চারা উৎপাদনে চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।




