কাবুলে কয়েক শ’ মিলিয়ন ডলারের সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে সিআইএ

0

লোকসমমাজ ডেস্ক॥ তালেবান দাবি করেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা কাবুলে সকল সামরিক সরঞ্জাম, যানবাহন ও নথিপত্র ধ্বংস করেছে। তালেবান গতকাল সোমবার কাবুলে সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাবেক বৃহত্তম অপারেশনাল সেন্টারের দরজাগুলো খুলে বিধ্বস্ত পরিস্থিতি দেখতে পায়। কাবুলের দেহ সাব এলাকার অবস্থিত ‘ঈগল’ নামের কেন্দ্রটিতে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও আফগান এনডিএস -১ বাহিনীর কর্মকর্তারা অবস্থান করতেন। ক্যাম্পটি এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তালেবানের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সৈন্যরা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং কয়েক শ’ হামভি, সাজোয়া ট্যাংক ও অস্ত্র ধ্বংস করেছে। তালেবান জানায়, তারা ধ্বংস করা সরঞ্জামের প্রকৃত মূল্য জানে না। তবে ধারণা করছে, এসবের দাম কয়েক শ’ মিলিয়ন ডলার। ক্যাম্পের কমান্ডার মৌলভি আথনাইন বলেন, ব্যবহার করা যায়, এমন সবকিছু তারা ধ্বংস করেছে। ক্যাম্পে পাহারার দায়িত্বে থাকা মাসাব নামের এক তালেবান যোদ্ধা বলেন,অতীতে তিনি ক্যাম্পের কারাগারে আট দিন বন্দী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম, আট দিন বন্দী ছিলাম। বিষয়টি ছিল ভয়াবহ।-সূত্র : আফগান ওয়েবসাইট
ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক আনাস বারাকজাই বলেন, তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় সবকিছু ধ্বংস করেছে। তাদের কাজটি করা উচিত হয়নি। ক্যাম্পে মোতায়েন তালেবান বাহিনী বলছে, তারা মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, এমন আশঙ্কায় কয়েকটি কক্ষে এখনো প্রবেশ করেনি। মার্কিন সৈন্যরা চলে যাওয়ার আগে কাবুল বিমানবন্দরের সামরিক সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টারগুলোও ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ প্রদেশ পাঞ্জশির দখলের লড়াইয়ে নিজেদের বিজয় ঘোষণা করেছে তালেবান। অনলাইনে তালেবান একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, তাদের যোদ্ধারা শহরে তালেবানের পতাকা উত্তোলন করছে। তবে তালেবান বিরোধী বিদ্রোহী যোদ্ধারা দাবি করেছে যে, তারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় অবস্থান নিয়ে রয়েছে এবং তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। তালেবানের বিরুদ্ধে সারা দেশে সবাইকে জেগে ওঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তাদের নেতা। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি অডিও বার্তায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অফ আফগানিস্তান (এনআরএফ) অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবানকে বৈধতা দিচ্ছে এবং তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক আস্থা তৈরিতে সহায়তা করছে। ‘আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, দেশের ভেতরে অথবা বাইরে, আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি দেশের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সমৃদ্ধির জন্য জেগে উঠুন,’ তিনি বলেছেন। তিন সপ্তাহ আগে সারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। পশ্চিমা দেশগুলো সমর্থিত সরকারের পতন ঘটিয়ে ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখল করে নিয়েছে এ গ্রুপটি। এর ফলে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর ২০ বছরের অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে। রুক্ষ পাহাড়ি উপত্যকা পাঞ্জশিরে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। আশির দশকে সোভিয়েত অভিযান এবং ১৯৯৬-২০০১ তালেবান শাসনের সময়েও এ এলাকাটি বিদ্রোহের কেন্দ্রভূমি ছিল। তালেবানের দাবি নাকচ করে দিয়ে এনআরএফের মুখপাত্র আলি মাইসাম বিবিসিকে বলেছেন, ‘তালেবান পাঞ্জশির দখল করতে পারেনি।’ তাদের টুইটার একাউন্টে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত তালেবান এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।’ তবে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশকে পুরোপুরি কদর্য যুদ্ধ থেকে বের করে আনা হলো।’
বিবিসির সংবাদদাতা লিস ডুসেট বলছেন, পাঞ্জশির যদিও আফগানিস্তানের ছোট একটি প্রদেশ, কিন্তু এই এলাকার কিংবদন্তি রয়েছে। রুক্ষ পাহাড়ি এই এলাকা সোভিয়েতরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি, তালেবানও তাদের আগের মেয়াদে ব্যর্থ হয়েছে। হয়তো তালেবান পাঞ্জশিরের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলো দখল করতে পারে, কিন্তু পাহাড়ি অনেক স্থান শুধু এখানকার বাসিন্দাদেরই চেনা। সেখানে হয়তো তারা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান যেভাবে অগ্রগতি করে যাচ্ছে, তাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাঞ্জশির দখল হবে তাদের নতুন ইসলামিক আমিরাতের মুকুটে একটা হিরের মতো। কিন্তু বিদ্রোহী নেতা আহমদ মাসুদ এবং তালেবান সমালোচক আমরুল্লাহ সালেহও এত সহজে হয়তো ছেড়ে দেবেন না।
সূত্র : বিবিসি