জাতির স্বার্থে অনতিবিলম্বে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া উচিত : ড. আনোয়ারউল্লাহ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বাংলাদেশ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে অনতিবিলম্বে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক। কোভিড-১৯ ভাইরাসের অজুহাতে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ২০ মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এর কারণে বাস্তবিক অর্থেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা চরম নাজুক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। যার ফলে দেশের ভবিষ্যত যোগ্য নাগরিক সৃষ্টিতে বিরাট প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়েছে। অন্যদিকে সরকার অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলে থাকলেও বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকে। যেখানে মানুষের সকল সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান নেই। এজন্য দেশের সচেতন মানুষের সাথে সর্বপ্রথম দেশপ্রেমিক সরকারের ভূমিকা নেয়া অতি জরুরি। তিনি সোমবার বিকেলে ‘শিক্ষা গবেষণা সংসদ’ ঢাকার উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লাইভ ও জুম প্লাটফর্মে ‘সংকটাপন্ন শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. কোরবান আলীর সভাপতিত্বে ও শিক্ষা গবেষণা সংসদ ঢাকা’র চীফ কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর নূর নবী মানিকের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বর্ষিয়ান আলেমেদ্বীন ও তামিরুল মিল্লাত কামীল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা মো: জয়নুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এ টি এম ফজলুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রধান ড. নিজাম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ফজলুল করিম, ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়াসহ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবীদগণ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, লুমফেন বুর্জয়া মার্কা সরকার যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তাহলে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা নিয়ে সরকারি তামাশা অনুগ্রহ করে বন্ধ করুন। সেই সাথে দেশে চলমান কুদরতে খোদা শিক্ষা কমিশন বাস্তবায়নের নামে মানুষের মাঝে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ ছড়িয়ে দেয়া জাতির মূল্যবোধ ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্রেরই নামান্তর। শিক্ষা ও নৈতিকতা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠের মতো। মানবিক নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষা কুশিক্ষার নামান্তর, যা মানুষকে পশুর চেয়েও নিম্নস্তরে নামিয়ে ফেলে। আর মানবিক নৈতিকতাপূর্ণ শিক্ষা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত রাখে। আমরা সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা রাখি। সেই সাথে অতিদ্রুত দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের হাট বাজার ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু যেখানে স্বাভাবিক ভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে। সেখানে শিক্ষার মতো অতি জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কেন বন্ধ রয়েছে! ছাত্র-ছাত্রীদের বিকাশে কেন এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখা হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, কালবিলম্ব না করে এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এম. কোরবান আলী বলেন, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোরআনের শিক্ষা তথা নৈতিক চরিত্র গঠনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা ও চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। যে শিক্ষা মানুষের বুদ্ধির বিকাশ বা হৃদয়বৃত্তির বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয় না সেই শিক্ষা শিক্ষা নয়। দেশ ও আগামীর আলোকিত নাগরিক তৈরীতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সকল সুধীজনকে এগিয়ে আসতে হবে।