পাইকগাছার গদাইপুরে জমে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারার হাট

0

এইচ.এম.শফিউল ইসলাম,কপিলমুনি (খুলনা) ॥ করোনাকালীন বিধিনিষেধ শিথিলের পর খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে জমে উঠেছে ভোরবেলার গাছের চারার হাট। হাটে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ-বনজ,ফুল ও ঔষধি গাছের চারা উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে নার্সারি চারার হাট এখন জমজমাট। ভোরের হাট বেলা ১২ টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
পাইকগাছা উপজেলার আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতারা ভোরবেলার হাট থেকে পছন্দমত বিভিন্ন প্রজাতির চারা কিনছেন। ভোরবেলার চারার হাটে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ জন্য দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা এসে বাজারে রাতযাপন করেন। এ হাটে ফলদ, বনজ, ঔষধি, ফুলসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষের চারা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহে রবি,ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। বিগত বছর থেকে গদাইপুর বাজারে ভোরবেলা চারার হাট দক্ষিণ অঞ্চলে ব্যবসায়ী ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গদাইপুর নার্সারির জন্য বিখ্যাত। গদাইপুরের নার্সারির চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ৪শ থেকে ৫শ নার্সারি গড়ে উঠেছে। এ সকল নার্সারিতে উৎপাদিত বিভিন্ন চারা ও কলম মালিকরা ভোরবেলা গদাইপুর হাটে তুলছেন। হাটে আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, লিচু, কদবেল, বিভিন্ন জাতের কুল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, কমলা লেবু, দেশি বিদেশি নারকেল চারা, সুপারী, মেহগনি, সিরিশ, লম্বু, আকাশমনি, বিভিন্ন প্রজাতির দেশি বিদেশি ফুলের চারা হাটে কেনাবেচা হচ্ছে। হাটে ২০ টাকা থেকে ৬শ টাকা দরে কলম বিক্রি হচ্ছে। মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা ও বিদেশি নারকেলের চারার দাম সব থেকে বেশি। বিদেশি নারকেলের চারা ৫শ টাকা, বড় মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা প্রায় ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকগাছা উপজেলা নার্সারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার পাল জানান, গদাইপুর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪শ নার্সারি রয়েছে। এ সকল নার্সারি থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় চারা সরবরাহ করা হয়। তবে গদাইপুর বাজারে ভোরবেলার হাটে প্রচুর পরিমাণ চারা উঠছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দমত চারা ক্রয় করতে পারছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিবেশ সু-রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। গদাইপুরে ভোরবেলা হাট থেকে ক্রেতারা চারা ক্রয় করে সূর্যের তাপ ছাড়াই চারা গন্তব্যস্থানে নিয়ে যেতে পারে। এতে চারার মান ভাল থাকে।