চিকিৎসক না হয়েও তিনি সিজার অপারেশন করতেন

খুলনা সংবাদদাতা॥ খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটিতে আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ভুয়া চিকিৎসক কামরুজ্জামানকে আটক করেছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছর ১০ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খুলনা জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব মাহমুদ পাশা। তিনি বলেন, ‘রূপসায় অবস্থিত আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন উত্তীর্ণ হয়েছে আরও তিন বছর আগে। চিকিৎসক পরিচয়দানকারী মো. কামরুজ্জামান কোনও ডাক্তার না। অথচ দিনের পর দিন চিকিৎসক সেজে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি নিজে রোগী দেখেন আবার সিজারও করেন। এর আগেও র‌্যাবের হাতে কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছেন।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আটক কামরুজ্জামানকে এক বছর ১০ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে সহযোগিতা করার অপরাধে স্থানীয় করাত কল ব্যবসায়ী আলম মোড়লকে ও ফার্মেসী ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। বুধবার ওই হাসপাতালে এক রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করেছেন কামরুজ্জামান। ওই রোগীর অবস্থা ভালো না। রোগীর অভিভাবক তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন।’ খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাবরিনা রহমান স্নিগ্ধা বলেন, ‘কামরুজ্জামান নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা ও সিজার অপারেশন করতেন। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় সে কোনও ডাক্তার না।’ ২০১৬ সালের ৯ এপ্রিল তার ভুল চিকিৎসায় রূপসা চর বস্তির হাফিজা বেগম নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া যায়।

ভাগ