আন্তর্জাতিক সংবাদ

বদলি ঠেকাতে কলকাতায় পাঁচ শিক্ষিকার বিষপান
লোকসমাজ ডেস্ক॥ বদলি ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে মঙ্গলবার বিষ পান করেন পাঁচ শিক্ষিকা। এর আগের দিন হাইকোর্টে মামলা করতে গিয়ে গ্রেফতার হন শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের প্রধান মইদুল ইসলাম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার কলকাতার সল্টলেকের বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের সামনে বিষপান করে বদলির প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বদলির বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু হয়। তার মধ্যেই পাঁচ শিক্ষিকা তরল বিষ খেয়ে নেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই শিক্ষিকার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। কিন্তু পরে সকলেই স্থিতিশীল আছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়। শিক্ষিকারা সম্ভবত ইঁদুর মারার বিষ খেয়েছিলেন। ভারতের রাজ্যটিতে চুক্তিবদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকারা বেশ কিছুদিন হলো আন্দোলন করছে। তারা মূলত স্থায়ী চাকরির দাবিতেই আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষিকাদের বদলি করা শুরু হয়। মঙ্গলবার বিষপান করা পাঁচজনের একজনকে শালবনী থেকে বদলি করা হয়েছে জলপাইগুড়ির একটি হিন্দি স্কুলে। আরেকজনকে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে বদলি করা হয়েছে জলপাইগুড়িতে। শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের প্রধান মইদুল ইসলাম বলেছেন, তাদের কথা কেউ শুনছেন না। তারা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বাড়িতে কয়েকবার গিয়েও মন্ত্রীর দেখা পাননি। সোমবার তিনি হাইকোর্টে মামলা করতে যাচ্ছিলেন। তখন তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার প্রতিবাদেও মঙ্গলবার বিক্ষোভ পালন হচ্ছিল। শিক্ষিকারা আন্দোলন করছেন বলেই তাদের উত্তরবঙ্গে বদলি করা হয়েছে। এ দিকে বিষপান করায় শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা দপ্তর ও পুলিশ ব্যবস্থা নিতে চলেছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, সবকিছুরই একটা রীতি-পদ্ধতি আছে। এর আগে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ জলপথে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত চড়াও হয়েছিলেন। মঙ্গলবার যে ঘটনা ঘটেছে, তা আগেও করার চেষ্টা হয়েছে। একবার তার বাড়ির সামনে এবং অন্যবার নবান্নে। তার দাবি, আন্দোলনের নামে হঠকারী কিছু করলে তাতে আখেরে লাভ হয় না। তৃণমূল বলেছে, রাজ্য সরকার এই চুক্তিবদ্ধ শিক্ষকদের বেতন পাঁচ হাজার ৪০০ থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ১৯০ টাকা করেছে। কিন্তু এই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নেওয়ার সময় কখনোই স্থায়ী করা হবে বলা হয়নি। এ দিকে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এর আগে কোনো সরকারের আমলে শিক্ষিকারা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে চায়নি। পাঁচ লাখ পদ খালি। তাহলে তাদের স্থায়ী করতে বাধা কোথায়? এক নাট্যকার শিক্ষামন্ত্রী হওয়ায় অনেক আশা ছিল। এখনো প্রত্যাশা করছি, তিনি সব ঠিক করবেন।

বিশ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারতে মন্ত্রী গ্রেফতার
লোকসমাজ ডেস্ক॥ নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রী নারায়ণ রানেকে গ্রেফতার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। ভারতে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার এ রকম ঘটনা ঘটল। বার্তা সংস্থা জানায়, মহারাষ্ট্রে একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে চড় মারার কথা বলেছিলেন রানে। তিনি বলেন, এটা কততম স্বাধীনতা দিবস তা উদ্ধব জানতেন না। পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছ থেকে তাকে জানতে হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে এই অজ্ঞানতার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীকে চড় মারার কথা বলেছিলেন রানে। রানের এই মন্তব্য ঘিরে মহারাষ্ট্রে আলোড়ন দেখা দেয়। শিবসেনা কর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়ে। কিছু জায়গায় তারা বিজেপি অফিস আক্রমণ করে। প্রতিবাদে বিজেপি বুধবার মহারাষ্ট্র জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। তবে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে রানে আদালতের কাছে জামিন পেয়েছেন। তাকে বলতে হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য তিনি আর করবেন না। আর ৩১ আগস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে। জামিন পাওয়ার পর রানে বলেন, ‘সত্যমেব জয়তে’। রানের আইনজীবী জানিয়েছেন, মন্ত্রী যখন খাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তারা হাইকোর্টে যান। পরে নিম্ন আদালতে রানের জামিন হয়। রানের বিরুদ্ধে শিবসেনা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। যার জেরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে গ্রেফতার করলো কোনো রাজ্য সরকার। নারায়ণ রানে একসময় শিবসেনাতে ছিলেন। বালাসাহেব ঠাকরের আমলে এ দলে তার উত্থান। শিবসেনার অভিযোগ, রানে জেনেবুঝে মহারাষ্ট্রে উত্তেজনা ছড়াতে চাইছেন। তাই তিনি এই মন্তব্য করেছেন। মন্ত্রিসভার শেষ রদবদলে রানেকে কেন্দ্রে মন্ত্রী করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ছোট ও মাঝারি শিল্পের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। তাকে মন্ত্রী করার জন্য প্রকাশ জাভড়েকরকে বাদ দেওয়া হয়। রানে কোঙ্কনের নেতা। দক্ষ সংগঠক। তাই পরবর্তী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মোদি। এ দিকে রাজ্যের সাবেক বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস বলেছেন, তিনি রানের মন্তব্য সমর্থন করেন না। কিন্তু পুলিশ যেভাবে তাকে গ্রেফতার করেছে, তা কিছুতেই মানা যায় না।

নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ স্বল্প সময়ের জন্য: তালেবান
লোকসমাজ ডেস্ক॥ তালেবানদের মুখপাত্র বলেন, নারীদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেরই প্রশিক্ষণ নেই আফগানিস্তানে কর্মরত নারীদের তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে, সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। খবর বিবিসি। তিনি আরও বলেন, “এটি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য একটি প্রক্রিয়া।” গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবানরা। তখন থেকে নারীদের পেশা ও অন্যান্য বিষয়ে স্বাধীনতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে নানা মহল। জাতিসংঘ তালেবানদের দ্বারা নির্যাতনের ‘নির্ভরযোগ্য’ কিছু প্রতিবেদন তুলে ধরেছে যার মধ্যে নারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অন্যতম। আফগান নারীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, যে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ স্বল্পস্থায়ী হবে। তিনি বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেরই প্রশিক্ষণ নেই যে কীভাবে নারীদের সঙ্গে আচরণ করতে হয় বা তাদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়।” “পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি।” এ দিকে নারীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেট মঙ্গলবার বলেন, তালেবানদের দ্বারা শিশু সৈনিক নিয়োগ এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কথা জানতে পেরেছেন তিনি। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন মিশেল। পরে কাউন্সিল নারী ও মেয়েদের অধিকারের প্রতি তার ‘অটল অঙ্গীকার’ নিশ্চিত করে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। কিন্তু অনেক মানবাধিকার গোষ্ঠী আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ তদন্ত প্রতিনিধি পাঠানোর যে আহ্বান জানিয়েছিল তা শেষমেশ অনুমোদন পায়নি। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবান বেশ সংযত আচরণ করছে এবং তারা নারী ও মেয়েদের অধিকার ও বাক-স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভাগ