চৌগাছা হাসপাতাল কর্মকর্তার দুর্নীতির তদন্ত আজ

0

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের। আজ বৃহস্পতিবার গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তে আসছেন এমনটিই নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর পরই চৌগাছা হাসপাতালের স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্রটি প্রকাশ্যে আসে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ভুয়া বিল ভাউচারে জেনারেটর তেলের টাকা উত্তোলনসহ নানা অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়। সংবাদটি খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ জসিম উদ্দীন হাওলাদারের নজরে আসে।
হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের ১৮ তারিখে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তের চিঠি পাঠান হাসপাতালে। আজ বৃহস্পতিবার ৭ কার্য দিবসের শেষ দিন। তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ জসিম উদ্দীন হাওলাদার জানান, চৌগাছা হাসপাতালের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শহিদুল্লাহ দেওয়ানকে তদন্ত কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান মাগুরা সিভিল সার্জন ডাঃ শহিদুল্লাহ দেওয়ান জানান, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে তদন্ত করা হবে।
একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, তদন্তকে ঘিরে বুধবার হাসপাতালের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হাসপাতাল কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নাহার লাকি গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট তথ্য সরবরাহ করার সন্দেহে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীকে অলিখিত ভাবে কাজ থেকে বিরত রাখেন বলেও গতকাল কেউকেউ অভিযোগ করেন। সারা দিনই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নানা ফাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গতঃ বিগত দিনে প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবায় ১৩ বারের দেশ সেরা একমাত্র মডেল হাসপাতালটি নানা অনিয়ম দুনীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। হাসপাতালটি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসলেও সেই সুনামের খাতে ভাটা পড়ে। হাসপাতালে করোনা কালীন ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে হাসপাতালের ওই কর্মকর্তা উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে সম্প্রতি প্রায় ১০ লাখ টাকার বিল ভাউচার জমা দেন। বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে জানাজানি হলে তিনি সেই বিল ভাউচার দ্রুত ফেরত নিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিল ভাউচার জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন। এ ধরনের অসংখ্য অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়ে চড়ে বসেন স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি চৌগাছাবাসির গৌরব ও অহংকার সরকারী এই হাসপাতাল তার আগের জায়গায় ফিরে আসবে সংশ্লিষ্ঠরা সেই ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।