চৌগাছায় এক সপ্তাহে ৩ শিশুসহ আক্রান্ত ৩৮জন, মাস্ক মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা (যশোর) ॥ কঠোর লকডাউন শিতিল করার পর যশোরের চৌগাছাবাসি যেন মুখে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেচলা এক প্রকার ভুলেই গেছে। লকডাউন শিতিলের দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই মানুষের মাঝে করোনা নিয়ে দেখা দিয়েছে অবহেলা। এদিকে চলতি মাসের শেষ ৭ দিনে ৩ শিশুসহ করোনায় আরও ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আবারও খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ৩য় ধাপের দাপটে দিশেহারা হয়ে পড়েন যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা চৌগাছাবাসি। বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ব্যাপক ভাবে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষই ৩য় ধাপে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছেন। সংক্রোমন রোধে থেমে থেমে চলে লকডাউন। চলতি মাসের ১১ তারিখ হতে সরকার লকডাউন শিতিল করলে ধীরে ধীরে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেন। কিন্তু থেমে নেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, প্রায় দিনই কম বেশি শনাক্ত হচ্ছে করোনা রোগী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন শিতিলের পর চলতি মাসের শেষ ৭ দিনে উপজেলাতে ৫, ১০ ও ১৫ বছরের তিন শিশুসহ ৩৮ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। শেষ ৭ দিনে (১৭ থেকে ২৩ তারিখ) যারা আক্রান্ত হয়েছেন এরমধ্যে পুরুষ হচ্ছেন ১১ আর নারী ২২ জন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই উপজেলার কোন না কোন গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামে বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২ বছর করোনা সংক্রমন স্থায়ী হলেও গ্রামের মানুষ সেভাবে সচেতন হয়নি। ফলে ভাইরাসটি বর্তমানে গ্রামের মানুষকে বেশি ঘায়েল করছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতেই চিকিৎসা গ্রহনের চেষ্টা করছেন, যার ফলে ভাইরাস দ্রুই ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে করোনার কারনে থেমে থেমে লকডাউন চলা বর্তমানে সরকার শিতিল করেছেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সব শ্রেনী পেশার মানুষ করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি এমনকি মুখে মাস্ক পরাও অনেকেই ভুলে গেছে। প্রয়োজনে বাজারে আসা আশাদুল ইসলাম, রাশিদুল ইসলাম, রেবেকা বেগম, জেসমিনারা বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাস্ক নিয়ে বের হয়েছি কিন্তু মুখে দেয়া হয়নি। প্রচন্ড গরমের কারনে মাস্ক পরা হচ্ছে না বলে অনেকেই জানান। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, বেচা কেনা কম তাই মাস্ক পরেনি, দোকানে কাষ্টকার এলেই তখন মাস্ক পরা হচ্ছে। মানুষের এই অবহেলার কারনে সকলকেই চরম মূল্য দিতে হতে পারে মনে করছেন সচেতন মহল। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৮ বছরের উপরে সকলকে ভ্যকসিন নিতে হবে। বর্তমানে সংক্রমন ও মৃত্যু কম বলে আত্মতুষ্ঠিতে ভোগার কোন সুযোগ নেই। লকডাউন শিতিল হলেও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি মুখে মাস্ক পরতে হবে। তা না হলে সংক্রমন আবারও ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ভাগ