লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনা মহামারীতে টিভি ও ল্যাপটপের চাহিদা বৃদ্ধিতে ডিসপ্লে প্যানেলের দাম বেড়েছে মাঝারি ও ক্ষুদ্রাকৃতির অর্গানিক লাইট এমিটিং ডায়োড (ওলেড) ডিসপ্লে প্যানেলের উৎপাদন বাড়াতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট এলজি। আগামী কয়েক বছরে এ খাতে ২৮০ কোটি ডলার (৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন) বিনিয়োগ করবে এলজি ডিসপ্লে। খবর আইএএনএস ও এনগ্যাজেট।এক বিবৃতিতে এলজি জানায়, ২০২৪ সালের মার্চ নাগাদ এ বিনিয়োগ শেষ হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার ওলেড কারখানায় এ বিনিয়োগ করা হবে। এ কারখানায় ষষ্ঠ প্রজন্মের ১৫০০ী১৮৫০ মিলিমিটারের সাবস্ট্রেটস উৎপাদন করা হয়ে থাকে।টেলিভিশনের জন্য বড় আকারের ওলেড প্যানেল সরবরাহকারী বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এলজি ডিসপ্লে। কিন্তু মাঝারি ও ছোট আকারের ওলেড সেক্টরে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় অনেকটাই দুর্বল ও পিছিয়ে আছে।
ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওলেড টিভি প্যানেল সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গুয়াংজুতে অবস্থিত ওলেড প্যানেল কারখানায় মাসিক উৎপাদন ৯০ হাজারে উন্নীত করেছে।
ওলেড প্যানেল ও এলসিডি প্যানেলের দামের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও টেলিভিশন খাতে এলজি ডিসপ্লের গ্রাহকরা ওলেড প্যানেল ক্রয়েই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ডিএসসিসির বরাতে বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যে পরিমাণ স্মার্টফোনের ওলেড প্যানেল বিক্রি হয়েছে তাতে এলজির ভাগ ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে শীর্ষ বিক্রেতা স্যামসাং ডিসপ্লের আয়ের শেয়ার ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ।শিল্প পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বড় অংকের বিনিয়োগের মাধ্যমে সিউলের পাজুতে অবস্থিত কারখানায় প্রতি মাসে ৬০ হাজারের বেশি মাঝারি ও ক্ষুদ্রাকৃতির ওলেড প্যানেল উৎপাদন করতে পারবে এলজি।
২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে টেলিভিশন প্যানেল মার্কেটে ওলেড প্যানেলের বাজার ২ দশমিক ৬ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৩৫ লাখ ইউনিটি টিভি বিক্রি হয়েছে। ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস, ২০২১ সালে ওলেড টেলিভিশন প্যানেল বিক্রি ৮০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে এবং বাজারের ৩ শতাংশ জায়গায় দখল করে নেবে।গত মাসে এক সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওলেড উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করছে। স্মার্টফোন ব্যবসা থেকে সরে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়ার এ প্রযুক্তি জায়ান্ট তাদের ব্যবসা খাতে পরিবর্তনের চেষ্টা করে আসছে।
অন্যদিকে করোনা মহামারীতে টিভি ও ল্যাপটপের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডিসপ্লে প্যানেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া এপ্রিল জুন প্রান্তিকে ভালো মুনাফা অর্জন করেছে এলজি। ওই প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭০ হাজার ১০০ কোটি ওন বা ৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। রেফিনিটিভ স্মার্টএস্টিমেট যেখানে ৫৯ হাজার ৯০০ কোটি ওন মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিল।
এলজির আয় বছরওয়ারি ৩১ শতাংশ বেড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়িয়েছে। মহামারীতে বড় টিভির চাহিদা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের উইটসভিউর উপাত্তে দেখা গেছে, এলজির ৫৫ ইঞ্চি এলসিডি (লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে) প্যানেলের দাম দ্বিগুণের চেয়েও বেড়েছে।





