পিতা-পুত্রের মৃত্যুতে চৌগাছার ঋষিপল্লীতে শোকাবহ পরিবেশ

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় পিতা-পুত্রের মৃত্যুর পর থেকে ঋষিপল্লীতে বিরাজ করছে শুনসান নীরবতা। স্ত্রী তার স্বামীর জন্য থেমে থেমে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠছেন। ছোট্ট শিশু সীমান্ত দাস বাবা এই যেন বাড়িতে এলো, মায়ের কোল থেকে ছুটে যাচ্ছে রাস্তায়। ¯েœহময়ী মা তার সন্তানের জন্য বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। সব মিলিয়ে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ঋষিপল্লীতে। ঘটনার একদিন পার হলেও কেউ আসেনি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। বেঁচে থাকা মানুষগুলোর দিন কীভাবে পার হবে সেই ভাবনায় দিশেহারা অনেকে। সোমবার রাতে স্থানীয় শ্মশানে পিতা-পুত্রের সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিন চৌগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের ঋষিপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, গোটা মহল্লা যেন শোকে কাতর। মৃত্যুর শিকার সাগর দাসের স্ত্রী সুমতি রানী দাস ঝুপড়ি ঘরে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন, তার ছোট্ট শিশু সীমান্ত দাস মাঝে মাঝে মায়ের চোখের জল মুছে দিচ্ছে, আর বাবা আসছে বলে ছুটে যাচ্ছে রাস্তায়। সাগর দাসের মা জোসনা রানী দাস স্বামী মধুদাস ও ছেলে সাগর দাসকে হারিয়ে যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীসহ নিকট আত্মীয়রা তাকে শান্ত¡না দেয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু কিছুতেই যে মন মানছে না। কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে গেছে সাগর দাসের দাদী প্রেমবালা দাসের (৯০)। ছোট্ট ঘরের সামনে একটি চেয়ারে বসে এই বৃদ্ধা তার ছেলে ও নাতি ছেলের শোকে কাতর। গত দু’দিনে পরিবারের কোন সদস্য জল টুকু মুখে দেয়নি বলে জানান প্রতিবেশীরা।
প্রতিবেশী পরিতোষ কুমার দাস, বড়মধু দাস, দিপক দাস, মাধবী রানী দাস বলেন, এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়ার নয়। তাদের সংসারে মোট সদস্য হচ্ছে ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ জন। এদের একজন বাকপ্রতিবন্ধী, বাকিরা শিশু ও মহিলা। যে দু’জন মারা গেছেন তারাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন পিতা ও পুত্র যা রোজগার করতেন তাতেই চলতো সংসার। কিন্তু এক সকালে পরিবারটির সব শেষ হয়ে গেছে। ভিটে বাড়ির ৪ শতক জমি আছে, সেই জমিতে বেড়ার ঘরে সকলের বসবাস। নেই রান্না ঘর, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ঘরে নেই গচ্ছিত কোন টাকা। সাগর দাসের স্ত্রী এক সন্তানের জননী সুমিতা রানী দাস কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘শিশু সন্তানকে নিয়ে আমি কী করবো? বাচ্চার মুখে তিন বেলা খাবার কীভাবে তুলে দেব?। ভগবান তুমি আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও।’
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মম এই মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত। ঘটনার পর থেকেই আমি তাদের পাশে আছি। তারা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা পূরণ হবার নয়। পরিবারটির বেঁচে থাকা সদস্যদের জন্য কিছু করতে হবে সেই চেষ্টায় আছি।’উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক জানান, স্বজনহারা পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আলোচনা হয়েছে, দ্রুতই এ সব প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য,গত ১৬ আগস্ট সকালে চৌগাছার সিংহঝুলী ইউনিয়নের দফাদার পাড়ার বাসিন্দা হাদিউজ্জামানের বাসার সেফটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে নেমে প্রথমে পিতা মধুদাস এবং পরে ছেলে সাগর দাসের মৃত্যু হয়।

ভাগ