অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে তেল চিনি ও আটার দাম

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বড়বাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রতিদিনিই একটু একটু করে বাড়ছে। শুধু তেল নয়, সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চিনি ও আটার দামও। এদিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে আমদানির পরও কাঁচা মরিচের দাম খুব একটা কমেনি। চালের বাজারও গত দু সপ্তাহ ধরে একই জায়গায় স্থির রয়েছে। তাছাড়া এই ভরা মৌসুমে ইলিশের যোগান ঠিকমত না আসায় দাম সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। অন্যদিকে কুরবানি ঈদের পর এখনও মাংসের বাজারে ক্রেতা সমাগম না হওয়ায় খামারের মুরগি ও গরুর মাংস বিক্রি বাড়েনি, সবজির বাজারে এখনও ক্রেতা কম।
গতকাল মঙ্গলবার বড়বাজার ঘুরে দেখা যায় খোলা সয়াবিন তেল, পাম তেল ও সুপার তেল বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৩০ টাকা থেকে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। অনুরুপ ১১৮ টাকায় বিক্রি হওয়া পাম তেলে ৯ টাকা বেড়ে ১২৭ টাকা ও ১২৫ টাকা কেজির সুপার তেলে ৭ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩২ টাকা। খুচরা ভোজ্যতেল বিক্রেতা রবি ব্যানার্জি জানান, এ সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই খোলা তেলের দাম প্রতি কেজিতে একটু একটু করে বেড়েছে। তিনি আরও জানান, পাইকারি বাজার থেকে তাকে বেশি দাম দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও এর দামে প্রভাব পড়ছে। এদিকে এই এক সপ্তাহে বাজারে খোলা আটার দাম প্রতি কেজিতে ২ টাকা বাড়লেও চিনির দাম বেড়েছে অনেক বেশি। গতকাল প্রতি কেজি চিনি ৭৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৭০ টাকায়। ২৮ টাকা কেজির খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় । মুদি দোকানিরা বলছেন ঢাকা, চট্টগ্রামে এসব পণ্যের দাম বাড়তি। এ কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।
ভোজ্যতেল, চিনি ও আটার পাশাপশি কাঁচা মরিচের ঝাঁঝে মানুষ এখন নাকাল। বর্ষাকালে প্রতি বছর এ সময়ে কাঁচা মরিচের ঘাটতি দেখা দিলে পাশর্^বর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা হয়। কিন্ত বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ ভারত থেকে আমদানি করা হলেও এর প্রভাব বাজারে তেমন একটা পড়েনি। গতকালও বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা জয়দেব সাহা জানান, বর্ষায় ক্ষেত নষ্ট হয়ে প্রতি বছর এই সময় কাঁচা মরিচের ঘাটতি পড়ে। বাজারে যোগান কম হওয়ার কারণে এর দামও বাড়ে। তবে তিনি আরও জানান, আলু, পিঁয়াজ, আদা-রসুনের দাম দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল তিনি আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, পিঁয়াজ ৪৫ টাকা, রসুন মানভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা ও আদা ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। বাজারে গত দু সপ্তাহ ধরে চালের দাম এক জায়গায় স্থির রয়েছে। গতকাল মোটা স্বর্ণা চাল মানভেদে প্রতি কেজি ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৮ থেকে ৫০, কাজললতা ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, বিআর-৬৩ চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও বাসমতি ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা চাল বিক্রেতা সাখাওয়াত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত দু‘সপ্তাহে কখনও প্রতি কেজি চালে ১ টাকা বাড়তি, আবার কখনও ১ টাকা কমে বাজার ওঠানামা করেছে। অন্যদিকে বড়বাজারে এই ভরা মৌসুমেও ইলিশ মাছের আমদানি বাড়েনি। আড়তদার পিয়ার মুহাম্মদ জানান, নদ-নদীতে জেলেদের জালে আশানুরুপ ইলিশ ধরা পড়ছে না। তবে তিনি আশা করছেন আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। গতকাল খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, তিনি এক কেজি ৪শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৩শ টাকা, ৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার টাকা ও ৭শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৮শ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, গত দু তিন দিনে ইলিশের কিছু আমদানি হওয়ায় দামও কেজিতে একটুখানি কমেছে। কুরবানি ঈদের প্রায় মাসখানেক হতে চললেও মাংসের বাজারে ক্রেতা সংকট কাটেনি। গতকাল তানবীর ব্রয়লার হাউসের স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসেন খামারের ব্রয়লার মুরগি ১২৫ টাকা, সোনালি মুরগি ২শ টাকা ও লেয়ার মুরগি ২শ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এছাড়া কাঠেরপুলে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫শ ৫০ টাকায়। এদিকে সবজির বাজারেও ক্রেতাদের আগ্রহ তেমন একটা নেই। এইচ এম এম রোডের আড়তদার শতাব্দী ভাণ্ডারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী গোলাম হোসেন নয়ন জানান, কুরবানি ঈদের পর থেকে আজ পর্যন্ত সবজির বাজারে বেচাকেনা স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। লোকসানে পড়ে চাষিরাও বাজারে খুব একটা সবজি নিয়ে আসছেন না। গতকাল খুচরা বাজারে পটল প্রতি কেজি ২৫ টাকা, কুমড়ো ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০/২৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, পেঁপে ১৫/২০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, বরবটি ৪০/৪৫ টাকা, ঝিঙে ৪০/৫০ টাকা, কুশি ৪০/৪৫ টাকা, ওল ৪০/৫০ টাকা, শসা ৪০/৫০ টাকা, বেগুন ৬০/৬৫ টাকা, গাজর ৮০/৯০ টাকা ও আগাম শীতকালীন ফুলকপি ২শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।