নারী অধিকার নিয়ে যা বললো তালেবান
লোকসমাজ ডেস্ক॥ আফগানিস্তানে তালেবানের সরকার গঠন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দলটির প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর পদত্যাগ করবেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে নারী অধিকার কর্মীদের। রবিবার এমন উদ্বেগের জবাব দিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন। তিনি বলেন, তালেবান নারীদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। হিজাব পরিধান করে শিক্ষা ও কাজের সুযোগ থাকবে তাদের। সুহাইল শাহিন বলেন, তার দলের নীতি হচ্ছে কারও দেশ ছাড়া উচিত নয়। কারণ আফগানিস্তানের সব মেধা ও দক্ষতা দেশের জন্যই প্রয়োজন। তালেবান চায় সবাই দেশেই থাকবে এবং দেশ গঠনে অংশ নেবে। এদিন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে করেছে তালেবান। সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তালেবানের এক বিবৃতিতে উচ্চ শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দেশে চলমান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনও নেতিবাচক পরিবর্তন হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন কোনও অবহেলা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেন।
লেবাননে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ২০
লোকসমাজ ডেস্ক॥ লেবাননের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা আক্কারে জ্বালানিবাহী একটি ট্যাংকার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮৯ জন। লেবানন রেডক্রসের বরাত দিয়ে আলজাজিরা রবিবার এ কথা জানিয়েছে। জানা গেছে, গোপন মজুদ থেকে জব্দ করার পর লেবাননের সেনাবাহিনী জনসাধারণের মাঝে এই ট্যাংকারে করে গ্যাসোলিন বিতরণ করছিল। বর্তমানে লেবানন তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে বেশ কয়েকটি ট্যাংকার ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টুইটারে দেশটির সাবেক ধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি বলেছেন, ‘আক্কারের হত্যাকাণ্ড বন্দরের হত্যাকাণ্ড থেকে আলাদা নয়।’ এর মাধ্যমে এক বছর আগে বৈরুত বন্দরে হওয়া বিস্ফোরণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। হারিরি দেশটির নেতৃস্থানীয় সুন্নি মুসলিম রাজনীতিক। লেবাননের উত্তরাঞ্চলে সুন্নি মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের পার্টির বর্তমান প্রধান জিবরান বাসিল নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
হাইতিতে ভূমিকম্পে ৩০৪ জনের মৃত্যু
লোকসমাজ ডেস্ক॥ হাইতিতে ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩০৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও প্রায় দুই হাজার মানুষ। স্থানীয় সময় শনিবার সকালের এই ভূমিকম্পে গির্জা ও হোটেলসহ বহু ভবন পুরো ধসে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসি জানায়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল অঁরি ইতোমধ্যেই হাইতিতে মাসব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশটি ২০১০ সালে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে লাখো মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি এখনো পুষিয়ে উঠতে পারেনি।
জানা গেছে, লে ন্যুভেলিস্ত শহরের বেশিরভাগ গির্জা ও হোটেল ধসে পড়েছে অথবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার এপিসকোপাল গির্জার প্রধান আবিয়াদে লোজামা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘রাস্তা জুড়ে শুধু মানুষের চিৎকার। তারা তাদের প্রিয়জনকে খুঁজছে। পানি ও চিকিৎসা সহায়তা চাইছে।’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ভয়াবহ ধ্বংসের চিত্র ফুটে উঠেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, দ্বীপটির সেইন্ট-লুইস দু সাদ শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটিসহ মোট ছয়টি ‘আফটার-শক’ অনুভূত হয়েছে।
সেখান থেকে ১২৫ কিলোমিটার দুরে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল অঁরি বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যতটা সম্ভব ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে জীবিতদের উদ্ধার করা।’ তিনি জানান, স্থানীয় হাসপাতালগুলো আহতদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হাইতিতে ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা’ অনুমোদন দিয়েছেন। মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি সেখানে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ যাচাই, নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।





