মনিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আ’লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা

মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর)॥ বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে যশোরের মনিরামপুরে প্রস্ততিমূলক সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে একটি গ্রুপ বৃহস্পতিবার বিকেলে দলিয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা শুরু করেন। অভিযোগ করা হয়েছে এ সময় সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসান গ্রুপের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সাধারন সম্পাদকের সভাপতিত্বে সভাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে হট্রোগোল করেন। ফলে সাধারন সম্পাদকের আহবানে সভা শেষ পর্যন্ত বানচাল হয়ে যায়। পরবর্তিতে সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অপর গ্রুপ প্রস্তুতিমুলক সভা করেন। এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। এ দিকে প্রস্তুতিমূলক সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দলিয় কার্যালয় ও তার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানাযায়, বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান ও সাধারন সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে দুইটি গ্রুপ পৃথকভাবে কর্মসূচি গ্রহন করেন। এ ক্ষেত্রে সভাপতির নেতৃত্বে ১৫ আগষ্ট দলিয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যকে। অন্যদিকে দলের সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে অপর গ্রুপটি ১৬ আগষ্ট কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলনকে। সে মোতাবেক বৃহস্পতিবার দলিয় কার্যালয়ে দুই গ্রুপই পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা আহবান করেন। বিকেল তিনটার দিকে সাধারন সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে দলিয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা শুরু হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেন, গৌর কুমার ঘোষ, সাবেক উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম আলী, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সন্দীপ ঘোষ, হাফিজ উদ্দিন, আবদুল হাই প্রমুখ।
সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন তাদের সভা চালাকালিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অপর গ্রুপের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টুর নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা উষ্কানিমূলক শ্লোগান দিয়ে দলিয় কার্যালয়ে প্রবেশের পর হট্টোগোল সহ মারমুখি আচরন করে তাদের সভা বানচাল করে দেয়। এ সময় তারা চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবদুল হাইকে লাঞ্চিত করেন। অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু(প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে ভাগ্নে) জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির বিনা অনুমতিতে পৃথকভাবে সভা আহবান করায় তারা ওই সভাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ করেন। ফলে সাধারন সম্পাদক ও তার লোকজন সভাস্থল ত্যাগ করেন।
পরবর্তিতে বিকেল চারটার দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অপর গ্রুপের নেতাকর্মীরা পৃথক প্রস্তুতিসভা শুরু করেন। এ সভায় দলিয় নেতাকর্মী ছাড়াও অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সভার মাঝামাঝি সময়ে সভাস্থলে যোগদেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। সভার সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসান জানান, সভা চলাকালিন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহীন চাকলাদার যশোর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে স্পষ্ট ঘোষনা দেন উপজেলা সভাপতি মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ১৫ আগষ্ট মনিরামপুরে একস্থানে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করতে হকে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্ট্রাচার্য্য। যদি কেউ পৃথকভাবে কোন কর্মসূচি পালন করতে চান অথবা গ্রুপিং করে বিশৃংখলার সৃষ্টি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে দলের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন জানান, উপজেলা সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের অনুমতি নিয়েই তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে দলিয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা শুরু করেছিলেন। তবে উপজেলা সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসান প্রস্তুতি সভার অনুমতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, সাধারন সম্পাদককে পৃথকভাবে সভা আহবান করতে নিষেধ করেছিলাম। এ দিকে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের প্রস্তুতি সভাকে কেন্দ্র করে আনাকাংখিত কোন ঘটনার আশংকায় সকাল থেকেই দলিয় কার্যালয় ও তার আশপাশে ওসি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ভাগ