স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে শুক্রবার দুপুরে চাচাতো দেবর আরশাদ আলী ও তার লোকজন গৃহবধূ সালমা খাতুনকে মারধর করে ঘরে আটকিয়ে রাখে। এ সময় সালমাকে উদ্ধারের জন্য স্বামী রমজান আলী ওই দিন বিকেল ছয়টার দিকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সন্ধ্যা সাতটার দিকে আরশাদ আলীর জিম্মিদশা (বাড়ি) থেকে আহত অবস্থায় সালমা খাতুনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরশাদ আলী ও তার লোকজন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলার খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম রসুল জানান, উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের গাঙ্গুলিয়া গ্রামের কৃষক রমজান আলী ও তার চাচাতো ভাই আরশাদ আলীর মধ্যে জমি নিয়ে বিবাদ চলে আসছে। এরই জেরে শুক্রবার দুপুরে রমজান আলীর বাড়ির উঠান দিয়ে যাতায়াত করা নিয়ে সালমা খাতুনের সাথে আরশাদ আলীর বাকবিতন্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে আরশাদ আলী ও তার লোকজন সালমা খাতুনকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। সালমা খাতুনকে জখম অবস্থায় আরশাদ আলী ও তার লোকজন ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখে।
খবর পেয়ে স্বামী বাড়িতে এসে সালমাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। সালমার স্বামী রমজান আলী জানান, চাচাতো ভাই আরশাদ আলী দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক হওয়ায় তার জিম্মদশা থেকে উদ্ধারের জন্য তিনি বিকেল ছয়টার দিকে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে হেডকোয়ার্টার থেকে মনিরামপুর থানাকে নির্দেশনা দেন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, নির্দেশনা পাবার সাথে সাথেই খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম রসুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযান চালিয়ে আরশাদের বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় সালমা খাতুনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরশাদ ও তার লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। শনিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।




