জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বাংলাদেশ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছিলেন, তার চোখ ৩-০তে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে লক্ষ্যটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে দায়িত্ব কাঁধে নিলেন অধিনায়ক তামিম। করলেন নিজের দ্রুততম সেঞ্চুরি। পাশাপাশি সতীর্থরা রাখলেন দারুণ অবদান। দাপুটে জয় পেল বাংলাদেশ। টানা তিন জয়ে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল তামিম ব্রিগেড।মঙ্গলবার হারারেতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতে সফরকারী শিবির।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে তিন বল বাকি থাকতে ২৯৮ রানে অল আউট জিম্বাবুয়ে। জবাবে বাংলাদেশ ২ ওভার হাতে রেখে ৫ উইকেটে করে ৩০২ রান। সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তামিম ইকবাল।লক্ষ্যটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। জিততে হলে করতে হবে ২৯৯ রান। সে লক্ষ্যে শুরু থেকেই বাংলাদেশ খেলেছে দায়িত্ব নিয়ে। উদ্বোধনী জুটিতেই উড়ন্ত সূচনা। তামিম-লিটন যোগ করেন ৮৮ রান। থিতু হয়ে লিটনের বিদায়।
অফ স্পিনার ওয়েসলি মাধেভেরের ডেলিভারিটি এমন কিছু ছিল না। অফ স্টাম্পের বাইরে সাধারণ ডেলিভারি। লিটন চাইলেন লম্বা পা বাড়িয়ে সুইপ করতে। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ শর্ট ফাইন লেগে। ৩৭ বলে ৩২ রান করে ফেরেন লিটন।
লিটনের সঙ্গী তখন সাকিব আল হাসান। উইকেটে যাওয়ার পরপরই দারুণ এক ছক্কা হাঁকান সাকিব আল হাসান। ১৬.৩ ওভারে আসে বাংলাদেশের শতরান। বাংলাদেশের জন্য এটা বড় স্বস্তি। এই ম্যাচের আগে টানা ছয় ম্যাচে ১০০ তুলতেই চার উইকেটে হারাতে হয়েছিল দলকে।
তামিম-সাকিবের জুটি ফিফটির পর এগোতে পারল না বেশিদূর। ৪২ বলে ৩০ রান করে আউট হন সাকিব। লুক জঙ্গুয়ের বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে, লেংথ বল। একটু স্লোয়ারও ছিল। সাকিব হুট করে হারিয়ে ফেলেন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ। জায়গায় দাঁড়িয়েই চালিয়ে দেন ব্যাট। বল গ্লাভসে নিয়েই কিপার উল্লাসে মাতেন। সাকিব হাত ইশারায় ওয়াইডের মতো ভঙ্গি করেন। তবে আম্পায়ার তুলে দেন আঙুল।
সাকিবের বিদায়ে ভাঙে ৬৯ বলে ৫৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। এরপর সেঞ্চুরির দেখা পান তামিম। টেন্ডাই চাতারার ফুল লেংথ বলে সজোরে ড্রাইভ, ফিল্ডারের ভুলে বল চলে গেল বাউন্ডারিতে। তামিম পৌঁছে গেলেন মাইলফলকে। সিরিজের আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ বাংলাদেশ অধিনায়ক এবার করলেন সেঞ্চুরি। মাত্র ৮৭ বলে এসেছে তার এই সেঞ্চুরি। ইনিংসে চার ৭টি, ছক্কা ৩টি।
ওয়ানডেতে তামিমের ১৪তম সেঞ্চুরি এটি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম, দেশের বাইরে সপ্তম। আর অধিনায়ক হিসেবে ১৫ ইনিংসে প্রথম! তার এটি ক্যারিয়ারের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও। আগেরটি ছিল ৯৪ বলে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে ২০১০ সালে।
সেঞ্চুরির পরই বিদায় নেন তামিম। অনেকটা আলগা শটে সাজঘরে ফেরেন তিনি। রাউন্ড দা উইকেটে অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল করেন ডোনাল্ড টিরিপানো। নিরীহ এক ডেলিভারি। তামিম জায়গায় দাঁড়িয়ে আলতো করে ব্যাট পেতে দেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় কিপারের কাছে। ৯৭ বলে ১১২ রান তামিমের।
তামিমের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ। উপলক্ষটা রাঙাতে পারেননি তিনি। হয়ে যান গোল্ডেন ডাক। উইকেট নেয়ার মতো ডেলিভারি ছিল না এটিও। অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি কাট করে হালকা ঢোকে ভেতরে। মাহমুদউল্লাহ শরীর থেকে দূরে শট খেলার চেষ্টা করেন। বল তার ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে যায় কিপারের গ্লাভসে।দারুণ অবস্থান থেকে হুট করেই চাপে পড়ে তখন বাংলাদেশ। তবে এমন চাপ সামাল দেন মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান। এই জুটিতে আসে ৫৫ বলে ৬৪ রান। ৫৭ বলে ৩০ রান করে মাধেবেরের বলে আউট মিঠুন।
জয়ের জন্য বাকি কাজটুকু দারুণ ব্যাটিংয়ে সেরেছেন নুরুল হাসান ও আফিফ হোসেন। দুজনে অবিচ্ছিন্ন থাকেন ২৮ বলে ৩৪ রানে। ৩৯ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন অনেকদিন পর দলে ফেরা সোহান। ১৭ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।
প্রথম ম্যাচে ১৫৫ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি হয় হাড্ডাহাড্ডি। বাংলাদেশ জেতে ৩ উইকেটে। শেষ ম্যাচে পরিণত এক বাংলাদেশ। প্রায় তিন শ’ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে আসে ৫ উইকেটের জয়। জয়তু টাইগার শিবির।

ভাগ