বিপদে মোমিনের জন্য ধৈর্যহারা হওয়ার সুযোগ নেই’

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, যেকোনো বিপদে মোমিনের জন্য ধৈর্যহারা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বরং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রেখে ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে সামনের দিকে এগুতে হবে। বিপদ ও দুর্যোগ আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। অনেক সময় আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
এ প্রসঙ্গে কালামে হাকীমের উপমা দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করবো, (কখনো) ভয়-ভীতি, ক্ষুধা-অনাহার, তোমাদের জান-মাল ও ফসলাদির ক্ষতি সাধন করে। তুমি (সে) ধৈর্যশীলদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দান করো। (সুরা আল বাকারা, আয়াত-১৫৫)।
শুক্রবার দুপুরে কাফরুল এলাকা সফরকালে এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তিনি একান্তে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনের এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। যে কোনো বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেন। পরে তিনি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে আর্থিক সাহায্য করেন। এ সময় আমিরে জামায়াতের সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা ও সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, কাফরুল পশ্চিম থানার নায়েবে আমির একেএম তৌফিকুল হক, সেক্রেটারি খান হাবিব মোস্তফা জামায়াত নেতা মুহাম্মদ মতিউর রহমান ও সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।
আমিরে জামায়াত উপস্থিত জনতার উদ্দ্যেশে বলেন, করোনা মূলত বৈশ্বিক মহামারী। চলমান এই মহামারীতে আমাদের জনজীবনেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। সংকোচিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা। অনেকেই তাদের কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ পরিস্থিতিতে একটি দায়িত্বশীল, আদর্শবাদী ও গণমুখী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বসে থাকতে পারে না। তাই আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ নিয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। এতে কেউ উপকৃত হলে আমাদের শ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করবো।
তিনি মহামারীতে বিপর্যস্ত মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসার জন্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা, সমাজের বিত্তবান মানুষ সহ সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ১১ লাখ মানুষ আক্রান্ত এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতির এতই অবনতি হয়েছে যে, এখন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেও উচ্চ সংক্রমাণ রোধ করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় করোনা পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তিনি মহামারী থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সকলকে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থণার আহ্বান জানান।

ভাগ