ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি রেলপথে অনুমতি দেয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দরে বাড়ছে সব ধরনের ভারতীয় পণ্যের আমদানি

আহম্মদ আলী শাহিন, নাভারণ (যশোর) ॥ রেলপথে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারতীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছে। ভারতের বনগাঁও ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা জিম্মি হয়ে পড়েছিল। সরকার রেলপথে পণ্য আমদানির অনুমতি দিলে সে সমস্যা এখন আর নেই। সাশ্রয়ী আর নিরাপদ হওয়ায় আমদানিকারকরা রেলপথে বাণিজ্যে ঝুঁকেছেন।
রেলপথে আমদানির অনুমতি দেয়ার পর ২০২০-২১ অর্থ বছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৯ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এ সময় রেল ভাড়া বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩১ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩০ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। যা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা। বুধবার বিকেলে বেনাপোল রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান আমদানি ও রাজস্ব আহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানিকারকরা জানান, স্থলপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের বনগাঁর কালিকতা ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের কাছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা জিম্মী হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সিরিয়ালের নামে ট্রাক প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে তাদের অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। ফলে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ে দেশিয় বাজারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের ৪ জুন থেকে সরকার রেলে সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাণিজ্যের অনুমতি দেয়। আগে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫টি ওয়াগানে পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে প্রতিদিন কার্গো রেল, সাইডোর কার্গো রেল এবং প্যার্সেলভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা জানান, অন্তত দুই দশক ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছিল। এখন ব্যবসায়ীরা অনেকটা সিন্ডিকেট মুক্ত। বর্তমানে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি সচল রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমদানি বাড়ার পাশাপাশি রেলখাতে চার গুণ রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, কন্টেইনারের মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য শুরু হওয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এতে সময় ও খরচ যেমন কমেছে, তেমনি নিরাপত্তাও বেড়েছে। ভারত থেকে স্থলপথের পাশাপাশি রেলযোগে মালামাল এলে দেশের রেলখাতেও উন্নয়ন হবে। রেলে ভারতে পণ্য রফতানির বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।
বেনাপোল স্টেশন মাস্টার শাহিদুজ্জামান জানান, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথেও পণ্য আমদানি হচ্ছে। বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে বন্দরে দুটি রেল ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চলছে বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনের সম্প্রসারণ কাজ। এসব কাজ শেষ হলে এ পথে বাণিজ্য আরও বাড়বে। আগে রেলপথে পাথর ও জিপসাম জাতীয় পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে গার্মেন্টস, কেমিক্যালস ও খাদ্যদ্রবসহ সব ধরনের পণ্য আসছে রেলে।

ভাগ