বিধিনিষেধ শিথিলের পর পুরনো চেহারায় যশোর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনেই বৃহস্পতিবার যশোর শহর, বাজার ও সড়কে মানুষের আনাগোনার পাশাপাশি যানবাহনের আধিক্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকেই জেলা শহরের সংযোগ সড়ক-মহাসড়কে গণপরিবহনে সয়লাব হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ¯্রােত নেমে আসে শহরের দিকে।
বেলা ১১ টার পর যশোর শহরের বাজারগুলোতে উধাও হয়ে যায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। যে যার মতো বাজারে প্রবেশ করতে থাকে। অধিকাংশ মানুষের মাঝে ছিল না শৃঙ্খলা বা স্বাস্থ্যবিধি। শহরের মানুষ ও যানবাহনের চাপে দিনের অধিকাংশ সময় জুড়ে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে নাকাল হতে হয় মানুষকে।
করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ১ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ শেষ হয় গত বুধবার। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কঠোর বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে সারাদেশে বৃহস্পতিবার থেকে অফিস-আদালত, দোকানপাট ও বিপণীবিতান খুলে দেয়া হয়। ২৩ জুন সকাল ৬ টা থেকে আবার ১৪ দিনের জন্য বিধিনিষেধ শুরু হবে।
বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় গতকাল জেলার প্রতিটি সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। দূরপাল্লার বাস ও আঞ্চলিক পরিবহনের ভিড় ছিলো আগের মতো। সরব হয়ে ওঠে সব বাসস্টপেজগুলো। শহরের এতোদিন যে শৃঙ্খলা ছিলো গতকাল তা বলতে কিছুই ছিল না। মনে হচ্ছিলো যেন দীর্ঘদিনের ঘুম ভেঙে রাস্তায় নেমেছে এক সাথে। একই অবস্থা ছিলো যশোর শহরের চিত্র। বিপণীবিতানগুলোতে ভিড় তেমন না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে যে যার মতো ছুটে আসে শহরে। কারোর মুখে মাস্ক আছে, আবার কারোর মুখে মাস্ক নেই। সবাই যেন ভুলে গেছেন যশোরের প্রতিদিনের করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের দীর্ঘ মিছিলের কথা।
সকাল ১১ টার দিকে যশোর মনিহার বাসস্ট্যান্ড থেকে দড়াটানা মোড় পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে ১ ঘন্টা ২০ মিনিট। এ কথা জানান আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ঘরবন্দি মানুষ একসাথে যেন নেমে এসেছে। রিকশা-ইজিবাইক, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের চাপে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
একই কথা বলেন, আলিমুজ্জামান নামে আরেক ব্যক্তি। তিনি বলেন, মানুষের চাপের পাশাপাশি যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় শহরের দড়াটানা, চৌরাস্তা মোড় ও মনিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকাতে দিনের অধিকাংশ সময়জুড়ে যানজট লেগে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় বলে তিনি জানান। প্রতিটি পয়েন্টেই মাত্রাতিরিক্ত যানজটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে সরকার নির্দেশনা দিলেও তা ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই মানছেন না। কোনো কোনো ক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী চলার চেষ্টা করলেও অন্যদের কারণে পারছেন না। অন্যান্য দিন স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও গতকাল তা দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাজারের প্রবেশমুখে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে মাস্ক বাধ্যতামূলকভাবে পরতে হবে। বাজারের কসাইখানা ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। বাজার বন্ধের পর জীবাণুমুক্ত করতে হবে। কেনাকাটার সময় অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অথচ এসব কোনো কিছুই ছিলো না গতকাল যশোর এইচএমএম রোড, কাপুড়িয়াপট্টিসহ অন্যান্য বাজারে। বাজারে আসা ক্রেতা শফিকুল ইসলামের কাছে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর তাড়াতাড়ি করে বাজারে এসেছেন। তাই মাস্ক আনতে ভুলে গেছেন। মাস্ক পরা আরেক ক্রেতা মো. লিটন বলেন, মহামারির এখন চরম খারাপ সময়। অথচ অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাজারে কেনাকাটা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এইচএমএম রোডের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা আসছেন। তাদের সবাইকে তো আর বলে বলে স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব নয়। ক্রেতারা নিজেরাই সচেতন হয়ে কেনাকাটা করলে অনেকটা মানা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা না করার কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা বলেন, বিষয়টি মার্কেট কমিটি ভালো জানে। সবেমাত্র খুলেছে তাই এ অবস্থা। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কাঁচাবাজারেও ছিল একই অবস্থা। মানুষের ভিড়ের কারণে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি বলতে কিছুই ছিলো না।

 

ভাগ