লোকসমাজ ডেস্ক॥ কোপা আমেরিকা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষই জানান দেয় বাংলাদেশের মানুষ কতোটা ফুটবল পাগল। শুধু আন্তর্জাতিক ফুটবলই নয়, ক্লাব ফুটবলের ‘ক্রেজ’টাও বাংলাদেশি সমর্থকদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত হচ্ছে লম্বা সময় ধরে। স্প্যানিশ লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, সিরি আ কিংবা বুন্দেসলিগার সমর্থকে গোটা বাংলাদেশ সয়লাব। প্রিয় ক্লাবের প্রতি সমর্থন জোগাতে তারা ফেসবুককে বেছে নিয়েছে বড় প্লাটফর্ম হিসেবে। বার্সা সমর্থক গোষ্ঠীর এমনই এক ফ্যানক্লাবের নাম ‘পেনইয়া ব্লাউগ্রানা বাংলাবার্সা দে ঢাকা’। যা খুব সম্প্রতি কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার স্বীকৃতি পেয়েছে।
গত ৮ই জুলাই বিশ^জুড়ে ১৯টি ‘পেনইয়া’কে এফসিবি ওয়ার্ল্ড পেনইয়েস ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তাতে ইতিহাস গড়ে প্রথম বাংলাদেশি ফ্যানক্লাব হিসেবে বার্সেলোনার স্বীকৃতি পায় ‘বাংলা বার্সা’।
তবে এমন স্বীকৃতি প্রাপ্তির পথটা বেশ লম্বা ও কন্টকাকীর্ণ ছিল বাংলা বার্সার কুশীলবদের। ২০১৮ সাল থেকে ফ্যানক্লাবটির যাত্রা শুরু হলেও এমনকিছু প্রাপ্তিটা ছিল তাদের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন।
বাংলা বার্সার নির্বাহী কমিটির সদস্য মুদাসসির আরাফাত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ পেনইয়া ব্লাউগ্রানা বাংলাবার্সা দে ঢাকা প্রায় এক দশকের দীর্ঘ একটি স্বপ্ন। শুরুটা হয়েছিল এফসি বার্সেলোনা লার্ভার্স ক্লাব নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে।’
মুদাসসির আরাফাত বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম বার্সেলোনার পেনইয়া হতে পেরে আমরা সবাই আনন্দিত। এই উল্লাস শুধু আমাদের মধ্যেই থেমে নেই, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বার্সেলোনা কমিউনিটিতে।’
স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য অনেক দৌঁড়ঝাপ করতে হয়েছে বাংলা বার্সার সংশ্লিষ্টদের। ২০১২ সালেই এই পেনইয়ার ধারণা মাথায় আসার পর থেকে এর সঙ্গে জড়িতরা নানাভাবে স্বীকৃতির জন্য বার্সেলোনার কাছে আবেদন জানান। বারবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি মুদাসসির আরাফাত, মাসুদুল লাবিব, কামরুল হাসান, রাশিক ইসলাম, এরফান আলী চৌধুরী, সোয়েলেম আফনান ইহাম, রাতুল কবির, রিফাত আজিম সৌরভ, কাজি মাহবুব মুতাকাব্বিরসহ গ্রুপটির বেশ কয়েকজন প্রধান সদস্য। ২০১৮ সালে বার্সেলোনার অনেক কূটনৈতিক দপ্তরে চেষ্টা চালিয়ে যান তারা। অবশেষে পূরণ হলো স্বীকৃতি প্রাপ্তির দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন।





