লকডাউনের সুফল পাওয়া যায়নি

করোনা সংক্রমণে একদিনে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি গত বছরের মার্চ থেকে দেশে মহামারির প্রকোপ শুরু হওয়ার পর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের গৃহীত ব্যবস্থা অপ্রতুল ও চলমান সংকট সমাধানে উপযোগী নয়। করোনা মোকাবিলার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে দায়িত্বশীলরা বিলম্ব করছে। এতে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অবশ্য ফিল্ড হাসপাতাল করার কথা বলা হয়েছে।
মূলত বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনার প্রথম ঢেউয়ের পিকটাইমে ২ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯ জন শনাক্ত এবং গত ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বাভাবিক অবস্থায় নেমে এলেও হঠাৎ করে মার্চ থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এবার ১ জুলাই থেকে প্রথমে এক সপ্তাহের পরে বাড়িয়ে দুই সপ্তাহের লকডাউন চলছে। লকডাউনের সুফল অবশ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বলার অপেক্ষা রাখে না যে দেশে এখনো প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, মোট শ্রমজীবী মানুষের ৮০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন- সেখানে জীবন-জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করা কেবল কঠিনই নয়, অত্যন্ত দুরূহও। মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ মহামাার এত তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছে না। আগামী বছরেও থাকবে এই মহামাার এবং একটি ঢেউয়ের পর আরেকটি ঢেউ আসবে কয়েক মাস পর পরই। লকডাউন দিয়ে হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য সংক্রমণ কমানো যায়। কিন্তু এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নয়। মহামাার থেকে বের হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে যত দ্রুত সম্ভব দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যেহেতু টিকাস্বল্পতার কারণে এ বছরই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়, সেহেতু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিতে হবে। এতে এই মহামারিতে অনেক জীবন বেঁচে যাবে। আর বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশ্যই সরকারি হাসপাতালগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করে আক্রান্তদের সেবা দিতে হবে। অর্থাৎ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, বিনা চিকিৎসায় যেন একটি প্রাণও ঝরে না যায়। যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মানলেই সংক্রমণ থেকে অনেকাংশে নিরাপদ থাকা যায়, সেহেতু জনসাধারণেরও দায়িত্ব থাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার।

ভাগ