চৌগাছায় খামারিদের দেয়া প্রণোদনার টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত গবাদি পশু, হাঁস-মুরগীর খামারিদের দেয়া প্রণোদনার টাকা মূল খামারিরা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের এই প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। টাকা না পাওয়া এক খামারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে (কোভিড-১৯) করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি খামারিদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে সরকার তাদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এ লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিপিপি) লাইভস্টক ডেইরি অ্যান্ড প্রজেক্টের অধীনে ন্যাচারাল এগ্রিকালচার ট্যামোলজি প্রজেক্টের আওতায় সারাদেশে খামারিদের জন্য ৪৬৮ কোটি টাকা প্রণোদনা বরদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় চৌগাছা উপজেলায় ১৬’শ ৭ জন খামারিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের মোবাইল একাউন্টে ২৭ জুন থেকে প্রণোদনার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এর আগে প্রণোদনা যাচাই-বাছাই করতে মাঠ পর্যায়ে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১০/১২ জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার, সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী। অভিযোগ উঠেছে যাদের খামার নেই, গরু নেই, এমনকি হাঁস-মুরগিও নেই, তাদেরকে দেওয়া হয়েছে সরকারি প্রণোদনা।
চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লাল মিয়া প্রণোদনার টাকা বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের নেই কোনো গোয়াল ঘর এবং তার স্ত্রী রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তাদের দু’জনেরই নাম রয়েছে সরকারি প্রণোদনার তালিকায়। এছাড়া গ্রামে একই পরিবারে সকল সদস্যের নাম থাকারও অভিযোগ করেন ইউপি সদস্য লাল মিয়া।
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান, সবুজ হোসেন, বিপুল হোসেন পেয়েছেন প্রণোদনার টাকা। কিন্তু এদের কোন গরু ছাগল হাঁস-মুরগী নেই বলে জানান স্থানীয়রা। এ রকম অসংখ্য মানুষের মাঝে দেওয়া হয়েছে প্রণোদনা।
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের প্রকৃত খামারি নুরুজ্জামান, চাঁদপাড়া গ্রামের ভদুমন্ডল, সবুর খাসহ অনেকেই প্রণোদনার টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ করেন। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ৫ থেকে ১০টি করে গরু, অথচ তাদের নাম উঠেনি সরকারি প্রণোদনার তালিকায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী বলেন, ‘চাঁদপাড়া গ্রামের তালিকা আমি নিজে থেকে করেছি। সেখানে কোন অনিয়ম হওয়ার কথা না। যারা আমাকে তথ্য দিয়েছে তারাই ভুল করতে পারে।’ বিষয়টি দ্রুতই দেখবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। লকডাউন বাস্তবায়নে সে ভাবে বাইরে যাওয়া হচ্ছে না। তবে দু’একের মধ্যেই তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ভাগ