পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা॥ খুলনার পাইকগাছায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি, জেল জরিমানা সত্বেও কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিয়ে। নানা কৌশলে বেড়েই চলেছে এর প্রবণতা। কঠোর লকডাউনেও চলছে এই বিয়ে। কোনোটা গোপনে আবার কোনোটা প্রকাশ্যে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে ৪টি বাল্যবিয়ে হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের আবু সায়েদ মালীর অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে কাটিপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে মাসুম বিল্লাহর সাথে, লক্ষ্মীখোলা গ্রামের রুহুল আমিন গাজীর অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে পার্শ্ববর্তী রফিকুল সরদারের ছেলের সাথে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে হয়। শুক্রবার হরিঢালীর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে আনারুল ইসলাম পার্শ্ববর্তী শ্যামনগরের আবুল হোসেনের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করে। একই রাতে হরিঢালীর গৌরাঙ্গ বিশ্বাস তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ডুমুরিয়ার পঞ্চানন বিশ্বাসের ছেলে সমীর বিশ্বাসের সাথে কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেন। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার হক প্রত্যেকের বাড়িতে যেয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের অর্থদণ্ড দেন। এ অপরাধে মোট ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক মো. আলতাফ হোসেন, আনসার কমান্ডার আবু হানিফসহ সংশ্লিষ্টরা।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য মহিলা সমিতির মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করলেও তেমন কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির পাশাপাশি জেল জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। তারপরও গোপনে অসচেতন অভিভাবকরা তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের বিয়ে দিয়ে বিপদগ্রস্থ করছেন।





