খুলনা প্রতিনিধি॥ল্যাব বন্ধ থাকায় নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাচ্ছেন না রোগীরা, ভর্তি নেয়নি হাসপাতালল্যাব বন্ধ থাকায় নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাচ্ছেন না রোগীরা, ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল
দূষণমুক্ত করতে বন্ধ ছিল খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব। এ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সীমিত আকারে নমুনা পরীক্ষা চলছে। আর এর জন্য করোনা শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় কাতরাচ্ছেন অনেক রোগী।
শনিবার (৩ জুলাই) নতুন চালু হওয়া শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে থাকতে দেখা যায় মুজগুন্নীর শাহরিয়ারকে (৩৮)। তিনি অক্সিজেনসহ মেঝেতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। পাশে তার স্ত্রী মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। কারণ নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন না পেলে স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারছেন না।
শাহরিয়ারের স্ত্রী বলেন, ৩০ জুন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন স্বামী। তিন দিনেও প্রতিবেদন পাইনি। পিসিআর মেশিনে সমস্যা থাকায় পরীক্ষার ফল পাচ্ছি না। শনিবার স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে নিই। কিন্তু প্রতিবেদন ছাড়া ভর্তি করতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে হাসপাতালের বারান্দায় মেঝেতে স্বামীকে শুইয়ে রেখে বসে আছি।
শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) প্রকাশ দেবনাথ বলেন, আমাদের হাসপাতালটি সম্পূর্ণ রেডজোন। এখানে কেবল করোনা পজিটিভ রোগীরা ভর্তির সুযোগ পান। হাসপাতালে ভর্তির জন্য শনিবার ৪৬টি আবেদন জমা হয়। যাচাই-বাছাই করে করোনা পজিটিভ রোগীদের ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, হাসপাতালে নতুন করোনা ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়েছে। ৩৫টি সাধারণ বেড ও ১০টি আইসিইউ বেড নিয়ে ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। এখানে করোনা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে। ৩৫টি সাধারণ বেডের ১৯টি পুরুষ ও ১৬টি মহিলা বেড রয়েছে।
হাসপাতালে নতুন করোনা ইউনিটের যাত্রা শুরুর পর পরিদর্শনে গেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইউসুপ আলী, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও সহকারী কমিশনার (গোপনীয়) উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক হাসপাতালের উপ-পরিচালকসহ চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সভাপতি কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, ৩০ জুন নমুনা পরীক্ষার পর সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে ল্যাবটি দূষিত বলে প্রমাণিত হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে ল্যাবটির কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ রেখে দূষণমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে এক দিনে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে কিট, রি-এজেন্ট নিয়ে এখানকার জনবল গিয়ে খুবির ল্যাব থেকে শুধু প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করিয়ে আনবেন।
তিনি বলেন, পিসিআর ল্যাব স্বাভাবিক রাখতে প্রতি মাসে অন্তত একবার করে দূষণমুক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু খুলনা মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবটি গত বছরের ৭ এপ্রিল চালুর পর দূষণমুক্ত করা হয়নি। এই ল্যাবে প্রচুর চাপ ছিল। যে কারণে মাসে দুই দিন বন্ধ রাখা ছিল অসম্ভব।





