বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ানো হল শয্যা করোনার হটস্পট হতে চলেছে যশোর মৃত্যু ও শনাক্তের হারের ঊর্ধ্বগতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনার নতুন হটস্পট হতে চলেছে যশোর। জেলায় প্রতিদিনই মরণব্যাধি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও শনাক্তের হার বেড়েই চলেছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ঠাসাঠাসি অবস্থা। গতকাল সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ছিল ২০২ জন করোনা রোগী। এই পরিস্থিতিতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি সভায় যশোর শহরের আরও বেসরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। এতে বেড়েছে করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে আরও একশ’ শয্যা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় সংক্রমণের হার অনেকটা বেশি হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতাল গুলোতে। এরমধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাপসাতালেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীর চাপ। শনিবার ৭২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৫০ জনের। এছাড়া ১৪০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছেন ২০২ জন।
শনিবার দুপুরে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৭২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে ৭১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫০ জনের করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। খুলনা মেডিক্যাল কলেজে চার জনের নমুনা পাঠানো হলেও সবগুলোই ফলাফল নেগেটিভ আসে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনে কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় কারোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১৬২। জেলায় এ পর্য়ন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৩৭ জন, সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৯ জন।
এদিকে, করোনা রোগীর চাপ আরও বেড়েছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। এখানে শনিবার সকাল পর্যন্ত ১৪০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিল ২০২ জন। আগের দিন শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ছয় জন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত রেড জোনে এখন ভর্তি রয়েছেন ১৩০ জন। এখানে শয্যা সংখ্যা ১১৮। তবে করোনার উপসর্গ নিয়ে ইয়েলো জোনে ভর্তি রয়েছেন ৭২ জন। এখানে শয্যা সংখ্যা ২২। অর্থাৎ রেড ও ইয়েলো জোনে মোট ১৪০টি শয্যা থাকলেও রোগী ভর্তি রয়েছে ২০২ জন। হাসপাতালের রেড জোনে আরও ২৩ শয্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া গতকাল সার্কিট হাউসে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি এক জরুরি সভায় যশোরে করোনা চিকিৎসায় আরও হাসপাতাল সংযুক্ত করা হয়েছে। আগে জনতা হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে আরও পাঁটি। সংযুক্ত এ হাসপাতালগুলোতে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে শয্যা সংখ্যাও। নির্ধারিত শয্যাসহ হাসপাতালগুলো হচ্ছে জনতা হাসপাতালে ৩০, ইবনে সিনায় ২০, নোভা মেডিকেল সেন্টার ও হসপিটালে ১৫, জেনেসিস হাসপাতালে ১৫, আধুনিক হাসপাতালে ১০ ও কুইন্স হসপিটালে ১০টি শয্যা নির্ধারন করা হয়েছে। এ তথ্য জানান, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির মুখপাত্র অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান।
অন্যদিকে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও আইসিইউ থাকা স্বত্ত্বেও কেনো এতো করোনা রোগী মারা যাচ্ছেন এমন প্রশ্নে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ইতোমধ্যে করোনা রোগীর জন্য ৩৪টি বেড বাড়ানো হয়েছে। এসব বেডের সাথে হাইফ্লো অক্সিজেন সংযুক্ত রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আরও ১০০টি বেড বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দু একদিনের মধ্যে এসব বেড প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এখন আর অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই। এখানে ৬ হাজার লিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার স্থাপন করা হয়েছে। চালু রয়েছে আইসিইউ। বিপুল পরিমাণ এ অক্সিজেন সরবরাহ অনেক দিন চলবে। আর যেসব রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারাত্মকভাবে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন তাদেরকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তির আগেই তাদের শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি নিয়ে আসছেন তারা। তিনি বলেন, সংক্রমণ রোধে এখন জনসচেতনতার বিকল্প নেই বলে এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, যশোরে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মাঠে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও রয়েছেন। শহর-শহরতলী ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে লকডাউন কার্যকরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে নানা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসনের লোকজন।

ভাগ