খুলনা প্রতিনিধি॥আসন্ন ঈদুল আজহায় খুলনা জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৯টি। ঘাটতি থাকছে ২৭ হাজার পশুর। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে আমদানি করা না গেলে এ সংকট কাটানো কঠিন হতে পারে। তবে আশপাশের জেলা থেকে খুলনার হাটে পশু আনার মাধ্যমে সংকট কাটানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি খুলনায় এবার নিয়মিত হাটের বাইরে মৌসুমি পশুর হাট বসানোর বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনা সংক্রমণের ওপর নির্ভর করছে পশুর হাট বসানোর বিষয়টি।
খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় এবার পাঁচ হাজার ২১২ জন খামারি ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এই পশুগুলোর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৬৮টি ষাঁড়, দুই হাজার ৩১৯টি বলদ, দুই হাজার ৪০৪টি গাভি, ৯টি মহিষ, ১২ হাজার ২৩৯টি ছাগল এবং দুই হাজার ২৫০টি ভেড়া রয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুলনা মহানগরী, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা কয়রায় উত্তরাংশ, দাকোপ, রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা গবাদি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, করোনার কারণে ডুমুরিয়া, আঠারো মাইল, শাহপুর, খর্ণিয়া, চাঁদখালীসহ স্থানীয় পশুর নিয়মিত হাটগুলোতে বলদ ও ষাঁড়ের আমদানি কম হচ্ছে। শহরতলীতে জার্সি ও ফ্রিজিয়ান ষাঁড়ের সংখ্যাই বেশি। পাইকগাছা ও কয়রার উত্তরাংশে দেশি বলদ বেশি রয়েছে।
ডুমুরিয়ার খামারি আফসার শেখ বলেন, হাটে নেওয়ার আগে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে ষাঁড়গুলোর যত্ন নিচ্ছি। ওষুধ না দিয়েই খাবারের মাধ্যমেই মোটাতাজা করা হয়েছে।
খুলনার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, যৌথ পরিবার হওয়ায় দুই-তিনটি পশু কোরবানি দিতে হয়। বাইরে থেকে আসা গরু বেশি টাকায় কিনতে হয়। আবার অন্য এলাকা থেকে পশু আনতে গেলে খরচ বেড়ে যায়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়ে কোরাবানির চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এই লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই অন্য জেলা থেকে পশু আনতে হবে। তাহলে এ সংকট মেটানো যেতে পারে।
খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রণজীতা চক্রবর্তী বলেন, জেলার অভ্যন্তরে খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়ে খুলনার চাহিদা মেটানো না গেলে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পশু আনতে হবে। মহানগরীর জোড়াগেটসহ জেলায় ২৫-২৬টি হাট বসবে এবার। সেখানে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পশু আসবে। এতেই খুলনায় পশু সংকট কেটে যাবে।
তিনি বলেন, মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে এবার কোরবানির হাটে রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতিটি পশুই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। নিরাপদ মাংসের জন্য খামারিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোটাতাজা করার খামারগুলোতে কোনও অপদ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে না।
খুলনা জেলায় নিয়মিত পশুর হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে রূপসা উপজেলার তালিমপুর, পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড, ফুলতলা উপজেলা সদর, ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া, শাহাপুর, আঠারো মাইল, চুকনগর, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী, গদাইপুর, কাছিকাটা, পাইকগাছা জিরোপয়েন্ট, দাকোপ উপজেলার বাজুয়া, চালনা, কয়রা উপজেলার দেউলিয়া, গোবিন্দপুর, কালনা, ঘুগরাকাঠি, মান্দারবাড়িয়া, হোগলা, দিঘলিয়া উপজেলার এম এম মজিদ কলেজ মাঠ, জালাল উদ্দিন কলেজ মাঠ, পথেরবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেঙ্গা, বটিয়াঘাটা উপজেলার বাইনতলা।





