খুলনা প্রতিনিধি॥খুলনার সরকারি-বেসরকারি তিন হাসপাতালে রবিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন করোনা পজিটিভ ও তিন জন করোনা উপসর্গের রোগী ছিলেন। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে ৯ জন করোনা পজিটিভ ও তিন জন ছিলেন উপসর্গের রোগী। খুলনা জেনারেল হাসপাতাল করোনা ইউনিটে দুই জন পজিটিভ, আর গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত তিন জনই করোনা পজিটিভ ছিলেন।
খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, ২৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে ১৬০ জন করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রেড জোনে ৯৬ জন, ইয়োলো জোনে ২৫ জন, এইচডিইউতে ২০ জন ও আইসিইউতে ১৯ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন আর ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩৯ জন। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ১২ জন। এর মধ্যে ৯ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ।
খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ রোগী। ছাড়পত্র নিয়েছেন আট জন, আর মারা গেছেন দুই জন। হাসপাতালে বর্তমানে মোট ভর্তি আছেন ৬৮ রোগী। এর মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ৩৫ জন নারী রোগী রয়েছেন।
বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে ২৭ জুন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৮৮ জন পজিটিভ রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন, আর ছাড়পত্র নিয়েছেন ২২ জন। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন তিন জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ নমুনা পরীক্ষায় ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
খুলনা মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবে ২৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪৯.৫৭ শতাংশ। এর আগে শুক্রবার খুমেক ল্যাবে শনাক্তের হার ছিল ৩৭.৯০ শতাংশ, বৃহস্পতিবার ছিল ৫১.৫৫ শতাংশ, বুধবার ছিল ৩৪ শতাংশ, মঙ্গলবার ছিল ৪০ শতাংশ, আর সোমবার এ হার ছিল ৩১ শতাংশ।
খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, খুমেকের পিসিআর মেশিনে মোট ৪৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে খুলনার ১২৯ রোগী রয়েছেন। এছাড়া বাগেরহাটের ৯৩ জন, যশোরের আট, সাতক্ষীরার তিন, নড়াইল-পিরোজপুর ও ঝিনাইদহের একজন করে রোগী রয়েছেন।





