আলোচিত আবরার হত্যা : আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য সোমবার

লোকসমাজ ডেস্ক॥বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামানের আদালতে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ মামলার আসামিরা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। করোনাভাইরাসের কারণে গাজীপুর জেলায় লকডাউন থাকায় আসামিদের আদালতে পাঠায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করে। বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে সোমবার সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।
ফেসবুকে সরকারবিরোধী স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩ টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পর দিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
ওই ঘটনায় নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ রাজধানীর চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। মামলায় ৬০ জনের মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন ও তদন্তেপ্রাপ্ত আরো ছয়জন রয়েছেন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন ও এজাহারবহির্ভুত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মো: অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো: মেহেদী হাসান রবিন, মো: মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো: মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো: মনিরুজ্জামান মনির, মো: আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো: মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু। তারা সবাই ছাত্রলীগের বুয়েটের নেতাকর্মী। অবশ্য আবরারকে হত্যার পর তাদেরকে দল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মামলার তিনজন আসামি এখনো পলাতক আছেন। তারা হলেন মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। তাদের মধ্যে প্রথম দু’জন এজাহারভুক্ত ও শেষের জন এজাহারবহির্ভুত আসামি।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

ভাগ