বেনাপোল প্রতিনিধি॥বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের জীবনযাপন চরমে পৌঁছেছে। করোনার অভিঘাতে দেড় বছর ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানের ভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারছেন না প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। অতি দ্রুত স্কুল খুলতে না পারলে প্রতিষ্ঠান টিকবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে তারা। বন্ধের মধ্যে মালিকরা বেতন দিতে না পারায় সরকারি সহায়তার দিকে চেয়ে রয়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেনাপোল ও শার্শার কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। এসব শিক্ষকদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে এ সমস্ত শিক্ষকদের।
বেনাপোল ও শার্শার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে প্রায় ৫৫টি কিন্ডারগার্টেনে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োজিত রয়েছেন। এরা প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের বেতন-ভাতা আর টিউশনের ফি দিয়ে সরসার চালাতো তারা। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন যেমন বন্ধ, প্রাইভেট টিউশনিও রয়েছে বন্ধ। ফলে একেবারেই বন্ধ তাদের আয়।
কয়েকমাস আগে সারাদেশে কিন্ডারগার্টেন স্কুল শিক্ষকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সেখানে তারা আপদকালীন সময়ে সরকার থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান প্রদান এবং কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাধানসহ বেশ কিছু দাবি তোলেন। সেই সঙ্গে দ্রুত প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
বেনাপোলের চেকপোস্ট আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, গত ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের আয়-রোজগারও। এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ রয়েছে বেতন-ভাতা। কিন্তু প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা স্কুলের ঘর ভাড়া। সেটার জন্য বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন। অভিভাবকদের কাছ থেকে স্কুলের বেতন আদায় হচ্ছে না। স্কুলের ঘর ভাড়াও পরিশোধ করতে পারছি না। চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
বেনাপোল সানরাইজ স্কুলের সভাপতি আজীম উদ্দিন গাজি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। লকডাউনের কারণে প্রতিষ্ঠানের আয়-রোজগারও বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক অবদান রয়েছে। করোনার এই দুর্যোগের সময় সরকারের উচিত এ সমস্ত শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দেওয়া।
শার্শা উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু তালহা জানান, একদিকে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে শত শত শিক্ষকরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কোনও বেতন দিচ্ছে না। শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বেতন না দিলে তো শিক্ষকদেরও বেতন হয় না। তা ছাড়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা সরকারি কোনও ভাতা বা অনুদান পান না। এই দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনও সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় আমাদের পরিবারে হাহাকার বিরাজ করছে।
শার্শা উপজেলা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে সরকারি সহায়তার বিষয়ে আমাদের কোনও পরিকল্পনা নেই। আমরা সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি ক্লাস নিচ্ছি। এখন মোবাইল, রেডিও ও অনলাইন এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সব শিক্ষার্থীর কাছে কীভাবে শিক্ষা পৌঁছাতে পারি, সে বিষয়ে কাজ করছি।





