চৌগাছা-আড়পাড়া সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের নাম হচ্ছে আড়পাড়া-চৌগাছা সড়ক। সড়কটি পাকাকরণের পর পার হয়েছে কয়েক বছর, কিন্তু কোন দিনই সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ১০ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ ইট খোয়া উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি দ্রুতই মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর।
উপজেলার পূর্ব উত্তর শেষ সীমানার একটি গ্রাম আড়পাড়া, এই গ্রামটির পাশেই ঝিনাইদাহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা আর পূর্বে যশোরের সদর উপজেলা। আড়পাড়া বাজার হতে চৌগাছা উপজেলা সদরের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। এই দশ কিলোমিটার সড়ক এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বলে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে। বছরের পর বছর সড়কটি ছিল কাঁচা। বৃষ্টিতে কাদা আর খরা মৌসুমে ধূলাবালিতে একাকার হয়ে যেতো । এলাকাবাসীর কষ্টের দিক বিবেচনা করে যশোর উন্নয়নের রূপকার সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলাম সড়কটি পাকাকরণ করেন। এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে অনেক বছর। সড়কের বহু স্থানে পিচ ইট খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ছোটখাটো যানবাহনসহ পথচারী। প্রতিদিনই বিকল হচ্ছে বাহন আর দূর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের।
সরেজমিন সড়কটিতে যেয়ে দেখা যায়, পৌরসভার ইছাপুর দাসপাড়া হতে শুরু করে আড়পাড়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থান ভেঙ্গে গেছে। ছোট যান ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার, ভ্যান, মটরসাইকেল, নছিমন করিমন অত্যন্ত সাবধনতা অবলম্বন করে চলছে। এ সময় কথা হয় ইজিবাইক চালক ইসরাইল হোসেন, আবু খায়ের, মোনতাজ আলী, ইব্রাহীম হোসেনের সাথে। তারা জানান, সড়কটি অল্প ভাঙ্গার সময় যদি মেরামত করা হতো তাহলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন নতুন ভাবে নির্মাণ করা না হলে চলাচল করা খুবই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতি দিনই সড়কে যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। দিনে যা রোজগার করছি তা সড়কেই নিয়ে নিচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম রাস্তা আরো বেহাল হবে, আরো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্খা বাড়তে পারে। পথচারী ইমরান হোসেন বলেন, এই সড়কটি পাশাপাশি দুই উপজেলাবাসীর চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। ভাঙ্গা সড়কের কারণে সব শেণি পেশার মানুষই নিদারুণ কষ্টে আছে। ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন, ফারুক হোসেন, শুকুর আলী জানান, আড়পাড়া বাজারকে ঘিরে এখানে হরেক রকমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভর্তি মালামাল এখানে নিয়ে আসেন, কিন্তু সড়ক নষ্ট হওয়াতে ট্রাক আসতে অপারগতা প্রকাশ করে, তাই ভাড়া বেশি দিয়ে মালামাল আনতে হয়, এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কৃষক আশানুর রহমান, আতাউর রহমান, বিল্লাল হোসেন জানান, সড়কটির পাশ্ববর্তী সকল গ্রাম হচ্ছে কৃষি নির্ভর। রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় কৃষক তার উৎপাদিত মালামাল সময় মত বাজারে নিতে পারেনা ফলে কাঙ্খিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সড়কটিতে ইছাপুর, সাদিপুর, রুস্তমপুর, মাজালী, ঝিনাইকুন্ডু, মাড়–য়া, দক্ষিণসাগর, আড়পাড়া, কাষ্টভাঙ্গা, গৌরীনাথপুর, ঘোপ, কান্দি, মির্জাপুর, জগদীশপুর, স্বর্পরাজপুর, পুড়াহুদা, সৈয়দপুর, কোটালীপুরসহ দু’উপজেলার অসংখ্য গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। এলাাকাবাসী অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মুনছুর আলী বলেন, সড়কটির কাজ শুরু করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই নতুন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

ভাগ