লোকসমাজ ডেস্ক॥চা রফতানিকারক দেশ হলেও এ বছর ব্যাপকভাবে পানীয় পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। করোনায় দেশটির চা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে পণ্যটি আমদানিতে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৯১ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। খবর বিজনেস লাইন।
টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত চা আমদানিতে গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ৯০ দশমিক ৭৭ শতাংশেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। দেশটি প্রতি কেজি চা আমদানিতে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে ৬৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি আমদানি করেছে। মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও আমদানি বাড়ানোয় ব্যয় বেড়েছে।
ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি বছর ৯০ লাখ থেকে এক কোটি কেজি চা আমদানি করে। তবে আমদানি করা এসব চা ভারতের বাজারে বিক্রি করা হয় না। বরং প্রক্রিয়াজাত শেষে তা পুনরায় রফতানি করা হয়। চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় পুরোটাই ভারতের নিজস্ব বাগানগুলো পূরণ করে।
চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানীকৃত চায়ের গড় মূল্য ২৩ দশমিক ৬ রুপি বেড়ে কেজিপ্রতি ১৭২ দশমিক ২১ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানীকৃত চায়ের গড় মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ১৪৯ দশমিক ৮ রুপি। সে হিসাবে দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ডলারের হিসাবে পণ্যটির আমদানি বাজারদর ২ দশমিক ১১ ডলার বেড়ে ২ দশমিক ৩১ ডলারে পৌঁছেছে। সে হিসাবে দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
আমদানিকারকরা বলছেন, আমদানীকৃত চায়ের সঙ্গে ভারতীয় চায়ের মিশ্রণ ঘটানো হয়। মান সংযোজনের মাধ্যমে এসব চা পুনরায় রফতানি করা হয়।
চায়ের দাম বাড়লেও বিষয়টিকে বিবেচনায় না নিয়েই আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। চলতি অর্থবছরে দেশটি বড় পরিসরে চা আমদানি করেছে। এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত চা আমদানির পরিমাণ ৯২ লাখ ৬০ হাজার কেজি বেড়ে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি করা হয়েছিল ১৪ কোটি ২০ লাখ কেজি চা। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে ৬৫ দশমিক ২১ শতাংশ।
এদিকে দরবৃদ্ধি সত্ত্বেও আমদানি বাড়তে থাকায় ২০২০-২১ অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট আমদানি বিলের পরিমাণ ১৯২ দশমিক ১৫ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৩ কোটি ৮৪ লাখ রুপিতে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি বিলের পরিমাণ ছিল ২১১ কোটি ৬৯ লাখ রুপি। সে হিসাবে আমদানি বিল ৯০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের হিসাবে চলতি অর্থবছরে আমদানি বিলের পরিমাণ ২ কোটি ৪১ লাখ ৮০ ডলার বেড়ে ৫ কোটি ৪২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরে আমদানি বিলের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২০ হাজার ডলার। সে হিসাবে আমদানি বিল বেড়েছে ৮০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
গত বছর নভেল করোনাভাইরাস মহামারী ও লকডাউনের ধাক্কায় ভারতে চা উৎপাদন ও সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে ওই বছর পানীয় এ পণ্যের বাজারদরে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় কোম্পানিগুলো বেশি দামে নিজস্ব পণ্য না কিনে দেশের বাইরে থেকে চা আমদানি করলে আর্থিক লোকসান এড়ানো যাবে বলে মনে করে। গত বছর ভারত কেনিয়া ও ভিয়েতনামকে চা আমদানির নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনায় আনে।





