যশোরে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায় বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত চাষিরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গত কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহ আর খরায় এ অঞ্চলের প্রাণীকুল অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও বলা চলে স্বস্তিতে আছেন বোরো চাষিরা। তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে সেই হিসেবে ঝড়-বৃষ্টি হলে কৃষকের সর্বনাশ হয়ে যেতো। তবে বোরো ধান তোলার শেষ সময়ে প্রত্যাশিত ঝড়-বৃষ্টি অবশম্ভাবী হয়ে উঠছে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বোরো চাষের জন্য আবহাওয়া অনেকটা অনুকূলে হওয়ায় কৃষক ভালো ফলনের আশা করছেন। জেলার ৮টি উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠে এখন ধানকাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর কয়েকদিন গেলেই কৃষক তার ধান নির্বিঘেœ ঘরে তুলে ফেলতে পারবেন। তবে গত দুদিন ধরে এ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। এতে কৃষক ক্ষেতের ধান তোলা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি সপ্তাহেই এ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা বেড়ে গেছে। এ কারণে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে এ অঞ্চলে। যার ফলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দৃঢ় হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বজ্রবিদ্যুতসহ বৃষ্টি ও হালকা ঝড় বয়ে যেতে পারে এ অঞ্চলে। বৃষ্টিপাত দু’একদিন দীর্ঘ হতেও পারে বলে আবহাওয়ার আগাম বার্তায় বলা হয়েছে। যদিও গত দুদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টির সাথে শিলাও ছিলো। তবে এ সময়ে বৃষ্টির সাথে যশোরসহ এ অঞ্চলে শিলা পড়লে বোরোর জন্য সর্বনাশ হয়ে দেখা দিবে।
জেলার সদর উপজেলার খাজুরার নোঙরপুর এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর দীর্ঘ অনাবৃষ্টি আর খরার কারণে আমরা চরম কষ্ট পেয়েছি। তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায় ছিল না। তারপরও আমরা চাচ্ছিলাম বৃষ্টি একটু বিলম্ব নেমে আসুক। প্রকৃতিও আমাদের অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু মনে হচ্ছে এখন আর সময় পাবো না। তাই ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছি।’ একই উপজেলার তালবাড়ীয়া গ্রামের বোরো চাষি আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের মাঠের প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। কিছু ধান এখন মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে। এসব ধান ঘরে তুলতে এখন দু’একদিন সময় লাগবে। আশা করছি, নির্বিঘেœই ধানগুলো ঘরে তুলে ফেলবো। আর যদি ঝড়-বৃষ্টি হয় তাহলে বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) দীপঙ্কর দাস বলেন, ‘বোরো আবাদ নিয়ে আমাদের যে অনিশ্চয়তা ছিলো তা অনেকটা কেটে গেছে। বৃষ্টি বিলম্ব হওয়ায় বোরো চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কৃষক কেটে ফেলেছে। এখন বাকি যেগুলো আছে তা এক দু’দিনের মধ্যে কেটে ফেলবেন কৃষক।’ তিনি বলেন, ‘বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় হিট শকে ধানের ক্ষতি হলেও আমাদের জেলায় সামান্য পরিমাণ ধানের ক্ষতি হয়েছে। ফলে এবছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে।’

ভাগ