ডাবের সর্বোচ্চ দাম খুলনায়

খুলনা সংবাদদাতা॥ একদিকে চলছে রোজার মাস, অন্যদিকে প্রচণ্ড দাবদাহ। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় অধিকাংশ মানুষ চাইছেন একটু ফল খেতে। কিন্তু খুলনায় অন্যান্য নিত্য পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বেড়েছে তরমুজ, ডাব, কলা, তাল, আনারস, বাঙ্গির দাম। বাজারে আম আসতে শুরু করলেও দামের জন্য কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। রোববার (২ মে) খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকারভেদে প্রতি পিস ডাব ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো কোনো বিক্রেতা ডাব একটু বড় হলেই তার দাম হাঁকছেন শত টাকা। যা স্মরণকালের সর্বোচ্চ হওয়ায় অনেকেই না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, এই গরমে ডাবের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু সেই চাহিদা অনুযায়ী ডাবের সরবরাহ অত্যন্ত কম। দীর্ঘ দিন ধরে খরার কারণে এবার নারকেল গাছে ফলন খুবই কম উৎপাদন হয়েছে। যে কারণে দাম অনেক বেশি। কেউ কেউ বলছেন, ইফতারে মানুষ ডাবের পানি খেতে চায়। কিন্তু আড়তে ডাবের সরবরাহ খুবই কম। এ কারণে ডাবের দাম বাড়তি। মহানগরীর বিকে রায় রোডের ডাল মিল মোড়ে ডাব বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কিছু দিন আগেও ডাব পাইকারি কেনা সম্ভব হয়েছে ২৫/২৬ টাকা পিস। কিন্তু এখন তা কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। ফলে বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে।’
তার ভাষ্যমতে, প্রচণ্ড খরায় এবার গ্রামের নারকেল গাছে ডাব কম ধরেছে। গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত ডাব মিলছে না। অথচ প্রচণ্ড গরমে সেই ডাবের চাহিদাই বেশি। শুধু ডাবই নয়, এই গরমে মৌসুমি ফল তরমুজের দাম শুরু থেকেই রয়েছে আকাশচুম্বী। এই ফলের দাম কমানোর জন্য খুলনায় অনেক স্থানে আন্দোলন হয়েছে। র্যাব, পুলিশ অভিযানও চালিয়েছে। কিন্তু ফলাফল তেমন একটা হয়নি। বর্তমানে এক কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। খুলনার বাজারে তরমুজের সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও দামের কোন হেরফের হচ্ছে না। টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের তরমুজসহ অন্যান্য ফল বিক্রেতা ইয়াহিয়া জানান, এবার দাকোপ বটিয়াঘাটায় ব্যাপক তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু দাম কমছে না। কুয়াকাটার তরমুজ ফুরিয়ে গেলেও বাজারে নতুন করে এসেছে খুলনার তরমুজ। খুলনার বড় বাজারের আড়তদার শামিম জানান, বাজারে দাকোপ-বটিয়াঘাটার তরমুজে ভরা। প্রতিদিনই এই দুই উপজেলা থেকে শত শত ট্রাক আর ট্রলারে করে বাজারে আসছে তরমুজ। কিন্তু দামের কোনো কমতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, রোজার কারণে হয়তো দাম কমছে না। তার ওপর যে হারে গরম পড়েছে তাতে তরমুজের দাম বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কমার কোনো লক্ষণ নেই। বাজারে অন্যান্য মৌসুমি ফলের মধ্যে সবে উঠতে শুরু করেছে আম। ফলন এখনো পর্যন্ত ভালো হলেও দাম অনেক বেশি। প্রতি কেজি আমের দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে ক্রেতার কাছে।
টুটপাড়া মোড়ে আম কিনতে আসা তসলিম হোসেন বলেন, ‘আমের দাম শুনেই চলে যেতে হচ্ছে। এতো দামে এখন আম কেনার সমর্থ অনেকেরই নেই।’ নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের ফল ব্যবসায়ী রুস্তম হোসেন বলেন, ‘তরমুজ ও বাঙ্গির দামের মতোই তালের দামও এখন বাড়তি। গত দুই সপ্তাহ হলো বাজারে তাল আসতে শুরু করেছে। তালের একটি শ্বাস এখন ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, আনারস প্রতি পিস ৫০ টাকা (সাইজ খুবই ছোট)।’ উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা তথা দক্ষিণাঞ্চলে মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সঠিক পরিচর্যার অভাব, পোকা মাকড়ের আক্রমণ, ভাইরাসের সংক্রমণসহ নানা কারণে নারিকেল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশেষ করে এবার খুলনা অঞ্চলে প্রায় টানা আট মাস বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নারকেল গাছে ডাব ধরে তা শুকিয়ে পড়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে ডাব ও নারিকেলের মূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাবের উৎপাদন কম হলেও তরমুজ, বাঙ্গির উৎপাদন হয়েছে বাম্পার। কিন্তু ডাবের দাম বাড়তি থাকায় অন্যান্য পানি জাতীয় ফলের দামও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

ভাগ