লোকসমাজ ডেস্ক॥ মসলা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আসন্ন রোজার ঈদে বাংলাদেশে মসলার দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। বাজার স্বাভাবিক থাকবে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম অপরিবর্তিত আছে।
সরকারি বাজার মনিটরিংয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসলার দাম আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ২০১৯-২০২০ সালের তুলনায় ২০২০-২১ সালে গরম মশলার দাম কমতির দিকে। প্রতি কেজিতে ৬০ ও ৫২ শতাংশ দাম কমেছে। দাম কমার শীর্ষে আছে আদা। ৪৪ শতাংশ দাম কমেছে দেশি রসুনের এবং ৩১ শতাংশ দাম কমেছে আমদানি করা পেঁয়াজের।
বাজারে প্রতি কেজি দেশি আদা ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২২০ থেকে ২৮০ টাকা। আমদানি করা আদা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছর ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।
দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা গত বছর এই সময়ে ছিল ১১০ থেকে ১৪০ টাকা। আমদানি করা রসুন পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৮ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা।
গরম মসলা হিসেবে পরিচিত প্রতি কেজি জিরার দাম ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি দারুচিনি ৩৬০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গ প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। এ হিসেবে দাম কমেছে ২২ শতাংশ।
প্রতি কেজি ছোট এলাচ ২৪ শতাংশ কম দামে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনে প্রতি কেজিতে সাড়ে ৭ শতাংশ মূল্য হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেজপাতা প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত বছর ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এই হিসেবে দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত। মানভেদে শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ২১০ থেকে ৩০০ টাকা, প্রতি কেজি হলুদ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদ ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেছেন, ‘বছরব্যাপী করোনার কারণে মানুষের হাতে টাকা নেই। সেজন্য জনগণ কেনাকাটায় অনেক সতর্ক থাকছেন। খুচরা বাজারে বিক্রি না থাকলে পাইকারি বাজারে সমস্যা থাকবে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মশলার বাজার আমদানিনির্ভর হওয়ায় তা বিদেশের বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অনেকে ক্ষেত্রে ভারতের বাজারে দাম কম থাকলে তা আমাদের বাজারে প্রভাব পড়ে। এ বছর আন্তর্জাতিক বাজার আপাতত অস্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ নেই। সেজন্য বাংলাদেশের বাজারও স্বাভাবিক থাকবে। ঈদের কারণে বাজারে মসলার দম বাড়বে না।’





