যশোরে একদিনে করোনায় তিনজন ও ্উপসর্গে একজনের মৃত্যু : আক্রান্ত ২৯

0

বিএম আসাদ ॥ করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশোরে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। নতুন করে আরো ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে যে ১০ জন করোনা রোগী পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের উদ্ধার করার পর বাড়ি কঠোর লকডাউনের পাশাপাশি ১৪ দিনের কোয়ারেন্টানের আওতায় আনা হয়েছে। পরিবারের সকলকে লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। করোনায় মৃতরা হচ্ছেন, যশোর সদর উপজেলার হাসিমপুরের মোক্তার হাসান (৩৬), চৌগাছা উপজেলার মুক্তারপুরের আব্দুলের স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩৫) ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারো বাজারের জুলফিকার আলীর কন্যা নূরজাহান (২২), যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, গত সোমবার রাত ২টার দিকে করোনা ওয়ার্ড রেডজোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূরজাহানের মৃত্যু হয়েছে। ২০ এপ্রিল বিকেলে গুরুতর অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। একই দিন রাতসাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের পুরুষ আইসোলেশন ইয়োলোজোনে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন রাসেল (৩৫) নামে এক ব্যক্তি। রাসেল শার্শার নাভারণ গ্রামের তোতামিয়ার পুত্র। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসার সূত্র জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত শাহিদা বেগম খুলনা মেডিকেল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার মারা যান। নিজ বাড়িতে করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে খুলনায় নেয়া হয়েছিল। করোনায় আক্রান্ত অপরজন মোক্তার হাসান। নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
এনিয়ে যশোরে মোট ৮৬ জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে, যশোরে গতকাল একদিনে ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। র‌্যাপিড এ্যান্টিজেন পরীক্ষায় তারা আক্রান্ত হন। যবিপ্রবি থেকে আসা ১শ ২৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২২ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এ নিয়ে যশোরে সর্বমোট ৬ হাজার ২শ ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের ভেতর ৫ হাজার ৩শ ৪৪ জন সুস্থ হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৩ জন। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৭শ ৭১ জন। নতুন করে করোনা পরীক্ষার জন্যে সিভিল সার্জন অফিস গতকাল ১শ ৩৪টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য যারা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছিলেন। তাদের ভেতর কাল ৩ হাজার ১শ ৬৬ জন টিকার ২য় ডোজ গ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত মোট ২য় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৪ হাজার ৬শ ৫৪ ডোজ। এদিকে, ভারত থেকে যে ১০ জন করোনা রোগী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তাদের উদ্ধার করার পর পুলিশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের রেডজোনে ভর্তি করে দেন। আর যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৪ সদস্যবিশিষ্ট পুলিশের একটি টিম এবং হাসপাতালের একজন কর্মচারী মিলে ৫ জনের প্রহরা বসানো হয়েছে। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে কড়াকাড়ি আরোপ করা হয়েছে।