টিকা সংকট মোকাবেলায় উৎপাদনে যেতে হবে

0

টিকা সংকট নিয়ে সাম্প্রতিক খবরে স্পষ্ট হচ্ছে যে, বিভিন্ন মহল থেকে অতীতে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল, অবশেষে তা-ই সত্য হতে যাচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী এখন হাতে আছে মাত্র ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৪ ডোজ টিকা। প্রথম ডোজ টিকা এখন দেওয়া বন্ধ ঘোষণা হয়েছে। তারপরও টিকার নতুন চালান না এলে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই টিকার মজুদ শেষ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত টিকা পাওয়ার জন্য আমাদের চুক্তি রয়েছে শুধু ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে। ভারতে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। দেশটি থেকে কোনো টিকা আপাতত রপ্তানি না করার জন্য প্রবল জনমত তৈরি হয়েছে। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্র টিকার কাঁচামাল রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ায় ভারতে টিকার উৎপাদনও হচ্ছে কম। এ অবস্থায় ভারত থেকে নতুন চালান আসার সম্ভাবনা কম, যদি আসেও তা হবে চুক্তির তুলনায় অনেক কম। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ, রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের টিকা দেশে উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। এ অবস্থায় বায়োটেক উদ্ভাবিত টিকা কোভ্যাক্সিন বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদনেরও প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগে টিকা আমদানির জন্য সরকারের অনুমতি চেয়েছিল, তাদের অনুমতি প্রদানের বিষয়টিও এখন বিবেচনা করা হচ্ছে।
শুরুতে টিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক ছিল, আস্থার অভাব ছিল। সেসব কেটে গেছে। মানুষ এখন বুঝতে পারছে, করোনা থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে টিকা নেওয়ার বিকল্প নেই। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া বলা চলে যে, টিকা নেওয়া মানুষের মধ্যে সংক্রমণের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কম। এ কারণে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু এমন সময়েই দেশে টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ নিবন্ধন করেও টিকা নিতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা এ জন্য নিকট-অতীতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারাকেই দায়ী করছেন। রাশিয়া ও চীনের টিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এখনো কিছু বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব বিতর্কের ভিত্তি কম। সংবাদ মাধ্যমে খবর জার্মানি, রাশিয়া থেকে তিন কোটি ডোজ স্পুিনক ভি কিনতে যাচ্ছে। ইউরোপের আরো কিছু দেশ রাশিয়ার টিকা নিচ্ছে। ভারত স্পুিনকের অনুমোদন দিয়েছে এবং দেশটিতে স্পুিনক উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ভারতের পাঁচটি বড় ওষুধ কোম্পানি মিলে এই টিকা উৎপাদন করছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা স্পুিনকের সঙ্গে যৌথ গবেষণা চালাচ্ছে আরো কার্যকর ডোজ তৈরির জন্য। অনেক দেশেই চীনের দুটি টিকা রপ্তানি করা হয়েছে।
অবশেষে বাংলাদেশেও চীনের দুটি এবং রাশিয়ার একটি টিকাসহ আরো ছয়টি টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে আমাদের এসব টিকা আমদানি করা প্রয়োজন। একই সাথে এরপর যত দ্রুত সম্ভব দেশে টিকা উৎপাদনের চেষ্টা করতে হবে। ভারতের উদ্ভাবিত কোভ্যাক্সিন উৎপাদনেরও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শুধু দেশের চাহিদার জন্যই নয়, টিকা উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা আশা করি, অতীতের মতো সিদ্ধান্তহীনতায় আর কোনো সময়ক্ষেপণ করা হবে না এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় বেসরকারি কোনো সংস্থা বা কোম্পানিকে বাধা বা অনুৎসাহিত করা হবে না। সবার উপরে মানুষের জীবনের মূল্য বিবেচনা করা হবে।