লোকসমাজ ডেস্ক॥সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্রেতারা রমজানের আগেই বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ কিনে রেখেছেন। ফলে চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে দামও কমে গেছে। ১০-১২ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৬-৭ টাকা পর্যন্ত কমেছে মসলাজাতীয় পণ্যটির দাম। এতে লোকসানে পড়েছে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। গতকাল ভোমরা বন্দরে আমদানীকৃত পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২৩ টাকা কেজি দরে, যা রমজানের আগে ছিল ২৯-৩০ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার ঘোষ জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কিন্তু রমজান শুরুর পর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়েছে।
তিনি আরো জানান, রমজানের আগে যে পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২৯-৩০ টাকা কেজি দরে তা এখন ২২-২৩ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে চাহিদা না থাকায় মূলত পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। এতে ট্রাকপ্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
এ বন্দরের আরো এক পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাব্বির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শাহিন হোসেন জানান, অন্যান্যবার রমজানে পেঁয়াজ আমদানিতে ভালো লাভ হয়। কিন্তু এ বছর রমজান শুরুর পর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে ব্যাপক লোকসানে পড়তে হচ্ছে। প্রতি ট্রাক পেঁয়াজে ৭০ হাজার টাকার মতো লোকসান হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের মসলা বিক্রির সবচেয়ে বড় মোকাম সুলতানপুর বড়বাজার। এ বাজারের মেসার্স আবির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আজিজ জানান, রমজানে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। রমজানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অধিকাংশ ক্রেতা আগে থেকে পেঁয়াজ কিনে মজুদ করে রেখেছেন। ফলে রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে বাজারে পেঁয়াজের যে পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে সে তুলনায় চাহিদা বা বিক্রি নেই।
এদিকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী জানান, ১৫ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৪১২ টন। এর আগে ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৭ হাজার ১৬৪ টন।





