যশোরে টিকা নিতে এসে করোনার ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে করোনা টিকা গ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। লাইনে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তারা ঘন্টার ঘন্টা অপেক্ষা করছেন। ফলে, টিকা গ্রহণ করতে এসে তারা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। গতকাল শনিবার সরেজমিনে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের টিকা দান কেন্দ্র গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।
প্রতিদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কেন্দ্রে করোনা টিকা প্রদান করা হয়। পুরাতন মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চারটি পুরুষ এবং চারটি মহিলা বুথের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের টিকা দেয়া হয়। এর পাশে অবস্থিত রোগী কল্যাণ সমিতি ভবনে মুক্তিযোদ্ধা ও সেবিকাদের জন্য ২টি এবং প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় ভিআইপি বুথ বসিয়ে টিকা প্রদান করা হয়। কিন্তু সবকিছু ঠিক থাকলেও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে টিকা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে নেই করোনা সতর্কতার বালাই। শনিবার একজন আরেক জনের গা ঘেঁষে দাড়িয়েছিলেন টিকা নেয়ার অপেক্ষায়। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বাইরের প্রাচীর পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে পুরুষরা দাঁড়িয়ে ছিলেন দুই লাইনে। সেখানে তারা এতো গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিলেন যে, তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। একই চিত্র মহিলাদের লাইনেও সেখানে তারা ওয়ার্ডের ভেতরে পুরুষদের চেয়েও ঠাসাঠাসি অবস্থায় টিকা গ্রহণের জন্যে অপেক্ষা করছিলেন। অথচ, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে। এমনকি, টিকা প্রদানের সময় দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবীরাও হ্যান্ডমাইকে এ বিষয়ে প্রচার করছেন। কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছেন। তারা বলেন, টিকা গ্রহীতাদের এত চাপ যে, সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব মানা অসম্ভব। উন্মুক্ত স্থানে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব।
গতকাল শনিবার হাসপাতালের মোট ১১টি বুথে পুরুষ- মহিলা মিলে ১ হাজার ৫৬৭ জন টিকা গ্রহণ করেন। আবার অনেকে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে টিকা না দিতে পেরে ফিরে যান। টিকা গ্রহণকারীদের গা ঘেষে দাঁড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, আমি নিজে সকালে গিয়ে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলে এসেছি। দূরত্ব মানবে না তাদের টিকা দেয়া হবে না বলে জানিয়ে এসেছি। তারপরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। জনগণ সচেতন হলে এমনটি আর হতো না।

 

ভাগ