আসিয়ান সম্মেলনে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধের অনুরোধ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট- আসিয়ান’র সম্মেলনে সহিংসতা বন্ধ করতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। খবর বিবিসির।
শনিবার আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পৌঁছান মিন অং হ্লেইং। অভ্যুত্থানের পর এটিই তার প্রথম কোনো বিদেশ সফর। সম্মেলনে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হ্লেইংকে অনুরোধ জানান জোটের অন্যান্য নেতারা।মিয়ানমার সংকট সমাধানে এটি প্রথম কোনো বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বৈঠক। মহামারির মধ্যেও ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই জোটের নেতারা সম্মেলনে হাজির হয়েছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন মিয়ানমারে অবিলম্বে সাধারণ মানুষদের ওপর সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিক বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের শোচনীয় পরিস্থিতি অবিলম্বে থামাতে হবে।’ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো বলেন, এই পরিস্থিতি ‘অগ্রহনযোগ্য’। তিনি সেনাপ্রধানকে মিয়ানমারে সহযোগিতা পাঠানোর অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন।
বৈঠক শেষে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন বলেন, সেনাপ্রধান আসিয়ানের প্রতিনিধিদের মিয়ানমার সফরের অথবা মানবিক সহযোগিতা গ্রহণের বিরোধিতা করেননি।
লি সেইন বলেন, ‘তিনি (হ্লেইং) বলেছেন তিনি আমাদের কথা শুনেছেন, তিনি যে বিষয়গুলো উপকারী বলে মনে করেন তা তিনি গ্রহণ করবেন।’
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমার সংকটের সমাধান করতে আসিয়ান সম্মেলনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ‘মিয়ানমারের সীমানা ছাড়িয়ে সম্ভাব্য গুরুতর মানবিক বিপর্যয়’ রোধের আহ্বানও তিনি জানান।
মিয়ানমারকে আসিয়ান থেকে বের করে দেয়ার দাবিও উঠেছিল। তবে জোটের সদস্যরা ঐতিহাসিকভাবে একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না।
জাকার্তায় সম্মেলনস্থলের কাছে বিক্ষোভকারীরা বাসন ও কড়াই নিয়ে এবং প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও’, ‘আমরা সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে’।
শনিবার মিয়ানমারের প্রধান শহরগুলোতেও বিক্ষোভ হয়েছে। তবে সহিংসতার কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমারে গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাতশ’রও বেশি মানুষ মারা গেছেন।