স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাহিরঘরিয়া গ্রামে এক নববধূর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন ঊঠেছে। স্বামী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্ত্রী লাশ রেখে পালিয়ে গেছে। মৃত রহিমা বেগম (২০) বাহিরঘরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাশেদ আলীর স্ত্রী। রাশেদ আলী গতকাল সকাল ১০টার দিকে তার মোটরসাইকেলে স্ত্রী রহিমা বেগমের লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনেন। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহীনুর রহমান সোহাগ রহিমা বেগমকে মৃত ঘোষণা করে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। স্বামী রাশেদ আলী জানিয়েছেন, মণিরামপুরের ভারতপুরের আজিবর রহমানের কন্যা রহিমা। কাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথের মাঝের একই উপজেলার ঘুঘুদহ মোড় ঘোরার সময় মোটরসাইকেলের পেছন থেকে রহিমা বেগম পড়ে যান এবং মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত পান। এতে তার মৃত্যু হয়। রহিমা পিতামাতার একমাত্র সন্তান। ৩ মাস আগে তার পিতা মারা গেছে। ৫ মাস রাশেদ আলীর সাথে তার বিয়ে হয়েছে। একমাত্র কন্যা রহিমাকে হারিয়ে তার মাতা সখিনা বেগম গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আসেন এবং মর্গে কন্যার লাশ দেখে হতবাক হয়ে যান। তখন লাশের নাক মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল তার বাম পা মুচকানো ভাঙ্গা ছিল। মা শরীরে এ ধরনের আঘাতের চিহ্ন দেখে সখিনা বেগমের সন্দেহ হয়। সখিনা বেগম বলেন, মোটরসাইকেল থেকে পড়লে এ ধরনের আঘাত হয় না। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মারা গেছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে রাশেদ আলী। পুলিশের সামনে সখিনা বেগমের এ অভিযোগ শুনে রাশেদ হাসপাতালে স্ত্রী লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন বলেন, স্বামীকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। স্বামীর ভাষায় রহিমা বেগমের মৃত্যু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হলেও মৃতুার মাতার অভিযোগ খুন। ময়নাতদন্ত শেষে রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





