লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে। তবে লকডাউন উপেক্ষা করে যশোরের চৌগাছায় ও বাঘারপাড়ার ভাঙ্গুড়ায় বসছে পশুর হাট। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই চলছে এই হাট। চৌগাছায় হাটটি পরিচালনা করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে ভাঙুড়ায় কয়েক ব্যক্তি মিলে।
চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, শুধুমাত্র কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনার নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে সপ্তাহে দু’দিন বসছে পশুহাট। যা চলছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বাজারে ঢুকতেই চোখে পড়ে ইজারাদারদের কাউন্টার থেকে গাদাগাদি করে গরুর হাসিল কাটছেন ক্রেতারা। হাটে স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই। হাটে আসা লোকজনের মুখে নেই মাস্ক। এমন হাট ও জনসমাগম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতনমহল।
চৌগাছা পৌরসভার সচিব আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা পশুর হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মাস্ক বিতরণসহ স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি। তারপরেও মানুষ যদি নিজের ভালো না বোঝে তাহলে আমরা কী করতে পারি।’
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, ‘গত রোববারে পশুহাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আবারো কেন জনসমাগম করে পশুহাট বসানো হয়েছে জানিনা। পৌরসভার মেয়রকে বলে হাট বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, হাটের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় গত দু’বছর ইজারা ছাড়াই চলছে চৌগাছা উপজেলার সবচেয়ে বড় এই পশুহাট। পৌর কর্তৃপক্ষ সরাসরি পরিচালনা করছে এই হাট। সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ মার্চ ভূমি মন্ত্রণালয় চৌগাছার পশুহাটের আবেদন খারিজ করে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
অপরদিকে, বাঘাপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়ায়ও লকডাউনের মধ্যে পশু হাট বসছে সপ্তাহে দুই দিন। একটি রাইচমিলের চাতালে বসা এ হাটটি সোমবার বসে। সেখানে ছিল না করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধের কোন ব্যবস্থা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল বলেন, তার ইউনিয়নের চকেরডাঙ্গা ও জামদিয়ায় দুই জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি তাদের বাড়ি লকডাউন করেছেন। এ অবস্থায় ওই গ্রামের নিকটবর্তী স্থানে হাট বসা নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।





