মাসুদ রানা বাবু ॥ গতকাল মঙ্গলবার যশোরে কঠোর লকডাউনের কোন আলামত চোখে পড়েনি। একমাত্র গণপরিবহন ছাড়া সবকিছুই চলেছে স্বাভাবিকভাবে।
গতকাল ছিল দ্বিতীয় ধাপের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন। যশোরে এদিনের চিত্র ছিল ভিন্ন। স্বাভাবিক দিনের মতই শহরের রাস্তায় যান চলাচল ছিল। জনসমাগমও ছিল বেশি। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সরকার চলতি মাসের প্রথম দিকে সারাদেশে একসপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা করে। দেশের অন্যান্য স্থানের মত যশোরেও ঢিলেঢালাভাবে সপ্তাহব্যাপী লকডাউন পালিত হয়। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে সরকার পুনরায় এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে। সেই লকডাউনের সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমন বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে। পাশাপাশি সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়া, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাবার বিক্রি অথবা সরবরাহের কথা থাকলেও শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বিধিনিষেধে বলা হয়, কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। কঠোর লকডাউনের শুরুতে যশোরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সবকিছু চললেও ধীরে ধীরে তা শিথিল হতে থাকে।
গতকাল যশোর শহরে লকডাউনের তেমন কোন আলামত দেখা যায়নি। দিনের শুরুতে শহরের রাস্তা ছিল রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকের দখলে। চাঁচড়া চেকপোস্ট মোড়, মুজিব সড়ক, বিমানবন্দর সড়ক, রবীন্দ্রনাথ সড়ক, জেল রোড, রেল রোড ঘুরে দেখা যায়, গণপরিবহন ছাড়া সব বাহনের অবাধ চলাচল। চালকদের সাফ কথা, তারা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। লকডাউন মানতে গেলে ছেলে-মেয়ে না খেয়ে মারা যাবে। সরকার দিচ্ছে না কোন খাদ্য বা অর্থ সহায়তা। শহরে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলও প্রায় আগের মতো ছিল। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার চলছে বেশ দাপটের সাথে। রিকশা, ইজিবাইকের সাথে সমান তালে চলেছে ভিআইপি যানবাহন। লকডাউনের মধ্যে শহরের দড়াটানা, সিভিল কোর্ট মোড়, চৌরাস্তা, মনিহার এলাকাসহ বিভিন্ন মোড়ে ছিল পুলিশের চেকপোস্ট। সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল ছিল। তার মধ্য দিয়েই চলেছে যানবাহন। শুধু যানবাহন নয়, পায়ে হেঁটেও মানুষ চলাচল করেছে। এদিন জনসাধারণের চলাচল ছিল অন্যদিনের চেয়ে বেশি। শুধুমাত্র লকডাউনে যশোর অঞ্চলের ১৮টি রুটের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তার পরিবর্তে চলছে ইজিবাইক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস। যশোর পুলেরহাট-রাজগঞ্জ সড়কে স্টার্টার বসিয়ে চালানো হচ্ছে ইজিবাইক। আবার শহরের সার্কিট হাউজ মোড় থেকে, রেলগেট, চাঁচড়া চেকপোস্ট মোড় থেকে ঝিকরগাছা, নাভারণ পর্যন্ত সরাসরি ইজিবাইক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার চলাচল করছে। রাজারহাট থেকে মনিরামপুর যশোর খুলনা মহাসড়ক, যশোর-নড়াইল সড়ক, যশোর-ঝিনাইদহ, মাগুরা মহাসড়কে চলছে ইজিবাইক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার বা থ্রি হুইলার জাতীয় তিন চাকার যান। সবকিছু মিলে যশোরের চিত্র দেখে মনে হয়েছে এখানে লকডাউন নেই।




