স্টাফ রিপোর্টার,কেশবপুর(যশোর)॥ কেশবপুরের বাউশলা গ্রামে পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান (৮) নিহতের ঘটনায় আটক যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেনকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। ২ দিনের রিমান্ডে যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এর আগে শুক্রবার সকালে তাকে যশোর আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে কেশবপুর থানা পুলিশ। গত বৃহ¯পতিবার দুপুরে উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের বাউশলা গ্রামে ওই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, উপজেলার বাউশলা গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম প্রতি দিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের মাঠে তাদের স্যালোমেশিনে পানি উঠছে কিনা তা দেখতে যায়। এসময় মোস্তফার টোঙ ঘরে স্যালো মেশিনের পাশে পরিত্যক্তবস্থায় একটি কৌটা পড়ে থাকতে দেখে হাতে করে বাড়িতে আনেন। দুপুরের দিকে নিলুফা, তার ছেলে আব্দুর রহমান ও মেয়ে মারুফা মিলে কৌটাটি খোলার চেষ্টাকালে সেটি বিষ্ফোরিত হয়ে ঘটনাস্থলে ছেলে আব্দুর রহমান (১০) নিহত হয়। মারাত্মকভাবে আহত হন নিলুফা (৩০) ও শিশু কন্যা মারুফা(৪)।
পুলিশ ঘটনাস্থালে পৌঁছে স্যালো মেশিন ঘরে রেখে যাওয়া বোমার সূত্র খুঁজতে গিয়ে পাশ্ববর্তী ওই যুবলীগ নেতার ঘেরের টোং থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে বোমার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক হোসেনকে সন্দেহভাজনভাবে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত স্কুল ছাত্রের চাচা সিরাজুল ইসলাম গত ১৫ এপ্রিল কেশবপুর থানায় মামলা করেন। যার নং-৭। স্থানীয়রা জানায় , ফারুক হোসেন নামে ওই যুবলীগ নেতা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ওই গ্রামের মোস্তফার মৎস্য ঘেরটি দখলে নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেন। বিস্ফোরণে শিশু নিহতের পরে পুলিশ ওই ঘেরের টংঘর থেকে বেশ কিছু ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা আরও জানান, টংঘরে বহিরাগতরা নিয়মিত আড্ডা ও মাদকসেবন করে। এছাড়া বিরোধপূর্ণ ঘের দখলে রাখতে হয়তো সেখানে ককটেল রক্ষিত ছিল।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, বোমা বিস্ফোরনে স্কুল ছাত্র নিহতের ঘটনায় আটক যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২ দিনের রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





